বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান: শেখ হাসিনার বিদায়ের সেই ঐতিহাসিক দিন

৫ আগস্ট ২০২৪-বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত একটি দিন। দিনটি আজও আমার স্মৃতিতে স্পষ্টভাবে গেঁথে আছে।সেদিন দুপুর ১২টার দিকে রাস্তায় বের হয়ে দেখি, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কর্মীরা লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান করছেন। কিছুক্ষণ পর চারদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে পারেন। অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাঘাটের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করি।সে সময় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় দ্রুত টেলিভিশনের সামনে গিয়ে বসি। টেলিভিশনের স্ক্রলে ভেসে আসে-দুপুর ২টায় সেনাবাহিনীর প্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তখনই মনে হয়, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।পরে টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে গণভবনের সামনে মানুষের ভিড় এবং বিভিন্ন স্থানের দৃশ্য দেখানো হয়। একই সময়ে সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক মানুষকে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। কেউ মিছিল করেছেন, কেউ স্লোগান দিয়েছেন, আবার কেউ সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ, সহিংসতা ও প্রাণহানির খবর মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সংবাদ প্রকাশের পর আমার মনেও তীব্র আবেগের সৃষ্টি হয়। আনন্দের সেই মুহূর্তে অজান্তেই চোখে জল এসে গিয়েছিল।আমার কাছে ৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর দেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তন আসে, তা ইতিহাসে দীর্ঘদিন আলোচিত হবে। এই দিনটি আমার স্মৃতিতে চিরকাল একটি বিশেষ দিন হিসেবেই রয়ে যাবে।

৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান: শেখ হাসিনার বিদায়ের সেই ঐতিহাসিক দিন