শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

খুলনার রেলিগেট ফেরিঘাটে অবৈধ টোল আদায়, তদন্তের আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএর

খুলনা মহানগরীর রেলিগেট (নগরঘাট) ও দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী ভৈরব নদীর ফেরিঘাটে যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিআইডব্লিউটিএর খেয়াঘাটের ইজারাদার শেখ আলী আকবর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেরিঘাটের প্রবেশপথে বাঁশ ও চেয়ার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান এমনকি সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরকারি কোনো মূল্যতালিকা ছাড়াই দ্বিগুণ-তিনগুণ হারে অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।সরেজমিনে দেখা গেছে, দিঘলিয়ার বিভিন্ন জুট মিলের কাঁচামালবাহী ট্রাক, মাছের পোনা পরিবহনকারী পিকআপসহ শত শত জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন প্রতিদিন এই রুট ব্যবহার করে। ফেরিতে ওঠার আগেই তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।এসিআই কোম্পানির ট্রাকচালক মো. ইয়াসিন আলী অভিযোগ করেন, যাওয়া-আসার নামে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। যশোর নওয়াপাড়া থেকে আসা শাহ সিমেন্টের ট্রাকচালক কিবরিয়া মাতুব্বরও একই অভিযোগ করেন। এছাড়া এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, মোটরসাইকেল থেকে টাকা নেওয়া হলেও অনেক সময় কোনো রশিদ দেওয়া হয় না।খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক বলেন, সওজের ফেরিতে পারাপার হওয়া যানবাহন বা যাত্রীদের কাছ থেকে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারের টাকা আদায়ের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। বিষয়টি লিখিতভাবে বিআইডব্লিউটিএকে জানানো হয়েছে।খুলনা বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, খেয়াঘাটের ইজারাদার শুধুমাত্র খেয়াঘাটে নির্ধারিত টোল আদায় করতে পারবেন। ফেরির যাত্রী বা যানবাহনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগের সত্যতা পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার শেখ আলী আকবরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।স্থানীয়দের দাবি, ঘাটে স্থায়ী প্রশাসনিক নজরদারি ও পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করে কথিত ‘বাঁশকল’ সিন্ডিকেটের অবসান ঘটানো হোক।

খুলনার রেলিগেট ফেরিঘাটে অবৈধ টোল আদায়, তদন্তের আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএর