রাঙামাটিতে ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের কাছে চাঁদা দাবি, ডিসির কাছে স্মারকলিপি
রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন ও এরিয়া ম্যানেজারস ফোরাম।বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠন দুটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ এপ্রিল রাতে তবলছড়ি এলাকার এক ফার্মেসি মালিক ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে ফোন করে পরদিন একটি বৈঠকে অংশ নিতে বলেন। পরে ২৬ এপ্রিল সকালে পৌরসভার কাছাকাছি একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত বৈঠকে কয়েকজন ফার্মেসি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক উপস্থিত ছিলেন।অভিযোগে বলা হয়, বৈঠকের একপর্যায়ে রিজার্ভবাজার এলাকার এক ফার্মেসি মালিক মো. হারুনুর রশীদ ওরফে বিহারী হারুন ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের কাছে মাসিক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। উপস্থিত আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী এ দাবির প্রতি সমর্থন জানান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।প্রতিনিধিদের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাঙামাটিতে ব্যবসা ও চাকরি করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি চার দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে টাকা পরিশোধ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।পরে বিষয়টি এরিয়া ম্যানেজারস ফোরামকে জানানো হলে সংগঠনের এক নেতা অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফোনালাপেও চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করা হয় এবং পুনরায় হুমকি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ড সংরক্ষণে রয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন ও এরিয়া ম্যানেজারস ফোরামের নেতারা বলেন, এ ধরনের চাঁদাবাজি চলতে থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।তারা আরও বলেন, “আমরা মানবিক সেবার অংশ হিসেবে ওষুধ সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করি। কিন্তু চাঁদার চাপ ও হুমকির কারণে নিরাপদে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠছে।”স্মারকলিপিতে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জেলার ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।