ঘাঘটটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আজহার হোসেন শাহকে বিদায় সংবর্ধনা
দীর্ঘ কর্মময় শিক্ষাজীবনের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঘাঘটটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজহার হোসেন শাহকে আন্তরিক বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।অনুষ্ঠানে বক্তারা আজহার হোসেন শাহর দীর্ঘ শিক্ষাসেবা, সততা, কর্মনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ, মানবিক নেতৃত্ব এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্ম ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের শিক্ষক সমাজের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলার উপ-সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেতগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোর্শেদুল হক, বালাটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান মো. ফারুক এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম চান।এছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, বেতগাড়ী ক্লাস্টারের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় বেতগাড়ী ক্লাস্টারের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, সততা, প্রজ্ঞা, মানবিকতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের ওপর একটি হৃদয়স্পর্শী শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন।অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রতিনিধি রিয়াদুন্নবী রিয়াদ বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় অবসরজীবন কামনা করেন।বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত মো. আজহার হোসেন শাহ উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকতা তাঁর জীবনের সবচেয়ে গর্বের অধ্যায়। দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছেন, তা তিনি আজীবন স্মরণে রাখবেন। অবসর-পরবর্তী সময়েও শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় জীবন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।