মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

রাতে ঘুম ভেঙে বুক ধড়ফড়? হতে পারে প্যানিক অ্যাটাক

গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে বুক ধড়ফড়, শরীরে ঘাম, শ্বাসকষ্ট কিংবা তীব্র ভয় এমন অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই ভীতিকর। তখন মনে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে বা বড় কোনো বিপদ ঘটতে চলেছে।তবে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ তীব্র ভয় ও শারীরিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার একটি কারণ হতে পারে নকটার্নাল প্যানিক অ্যাটাক, যা নাইট প্যানিক অ্যাটাক নামেও পরিচিত। এটি ঘুমের মধ্যেই শুরু হয়ে মানুষকে জাগিয়ে দিতে পারে।নকটার্নাল প্যানিক অ্যাটাক হলো ঘুমের মধ্যে হঠাৎ তীব্র ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হওয়া, যার সঙ্গে বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয় এবং ঘুম ভেঙে যায়।এটি সাধারণ দুঃস্বপ্নের মতো নয়। দুঃস্বপ্নে সাধারণত ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙে এবং স্বপ্নটির কথা মনে থাকতে পারে। প্যানিক অ্যাটাকের ক্ষেত্রে ঘুম ভাঙার পর তীব্র ভয়, বুক ধড়ফড়, ঘাম বা শ্বাসকষ্টের মতো শারীরিক অনুভূতিই বেশি থাকে।এটি নাইট টেরর থেকেও আলাদা। নাইট টেররের সময় ব্যক্তি আংশিকভাবে ঘুমের মধ্যেই থাকতে পারেন এবং পরে ঘটনাটি মনে নাও থাকতে পারে।রাতে প্যানিক অ্যাটাক হলে একসঙ্গে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন হঠাৎ প্রচণ্ড ভয় বা আতঙ্ক বুক ধড়ফড় বা দ্রুত হৃদ্‌স্পন্দন শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া দ্রুত শ্বাস নেওয়া অতিরিক্ত ঘাম শরীর কাঁপা বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব বমি বমি ভাব শরীর গরম বা ঠান্ডা লাগা নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি মৃত্যু বা বড় বিপদ আসন্ন মনে হওয়া এসব উপসর্গ এতটাই তীব্র হতে পারে যে অনেকের মনে হয় তারা হার্ট অ্যাটাক করছেন। তবে একই ধরনের উপসর্গ অন্য শারীরিক সমস্যাতেও দেখা দিতে পারে।নকটার্নাল প্যানিক অ্যাটাকের সঠিক কারণ সবসময় জানা যায় না। তবে কয়েকটি বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।মানসিক চাপ: কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক দুশ্চিন্তা বা অন্য কোনো কঠিন পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াতে পারে।উদ্বেগের সমস্যা: যাদের দিনের বেলাতেও অতিরিক্ত উদ্বেগ বা প্যানিক অ্যাটাক হয়, তাদের রাতে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।ঘুমের সমস্যা: অনিদ্রা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যার সঙ্গেও রাতের আতঙ্কের সম্পর্ক থাকতে পারে। ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যাওয়া বা হাঁসফাঁস করে জেগে ওঠার ঘটনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ক্যাফেইন ও জীবনযাপন: অতিরিক্ত চা-কফি, ধূমপান এবং অনিয়মিত জীবনযাপন কিছু মানুষের উদ্বেগ ও প্যানিকের প্রবণতা বাড়াতে পারে।শারীরিক সমস্যা: থাইরয়েডের সমস্যা, অ্যাজমা বা অন্য কিছু শারীরিক অবস্থার উপসর্গও কখনো প্যানিক অ্যাটাকের মতো মনে হতে পারে।প্রথমে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। আরামদায়ক অবস্থায় বসে ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।আলো জ্বালিয়ে কিছুক্ষণ শান্তভাবে বসুন। খুব দ্রুত উঠে হাঁটাহাঁটি না করে শরীরকে স্থির হতে দিন। শ্বাস স্বাভাবিক হলে কয়েক চুমুক পানি পান করা যেতে পারে।গভীর ও নিয়ন্ত্রিত শ্বাস এবং muscle relaxation-এর মতো কৌশল কিছু মানুষের ক্ষেত্রে উপসর্গের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।তবে বুকে তীব্র ব্যথা, গুরুতর শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অন্য জরুরি উপসর্গ থাকলে এটিকে শুধু প্যানিক অ্যাটাক ধরে নিয়ে ঘরে থাকা উচিত নয়।একবার এমন অভিজ্ঞতার পর আবার ঘুমের মধ্যে একই ঘটনা ঘটবে—এই ভয় থেকেও ঘুমের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত কিছু অভ্যাস অনুসরণ করা উপকারী হতে পারে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন সন্ধ্যার পর চা-কফি ও ক্যাফেইন কমান নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন ঘুমের আগে মোবাইল ও স্ক্রিনের ব্যবহার কমান নিয়মিত খাবার খান শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, মেডিটেশন বা রিল্যাক্সেশন করতে পারেন বারবার সমস্যা হলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন হ্যাঁ, বারবার প্যানিক অ্যাটাক হলে চিকিৎসা নেওয়া যায়। Cognitive Behavioral Therapy (CBT) প্যানিক অ্যাটাকের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে আতঙ্কের চিন্তা ও শারীরিক উপসর্গের প্রতি প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের কৌশল শেখানো হয়।প্রয়োজনে চিকিৎসক ওষুধও দিতে পারেন। তবে কোন ওষুধ প্রয়োজন এবং কতদিন নিতে হবে, তা ব্যক্তির অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। তাই নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ শুরু করা উচিত নয়।রাতে ঘুম ভেঙে বুক ধড়ফড় বা শ্বাসকষ্ট হলেই সেটিকে প্যানিক অ্যাটাক ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়। বিশেষ করে প্রথমবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।বুকে নতুন বা তীব্র ব্যথা, গুরুতর শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা অন্য জরুরি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।এ ছাড়া রাতের আতঙ্ক বারবার হলে, ঘুম নষ্ট করলে বা দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ভয় পেয়ে জেগে ওঠা অত্যন্ত অস্বস্তিকর হলেও প্রতিবার এর অর্থ বড় কোনো বিপদ নয়। এটি নকটার্নাল প্যানিক অ্যাটাকও হতে পারে, যা চিকিৎসাযোগ্য। তবে একই ধরনের উপসর্গ হার্ট, শ্বাসযন্ত্র, থাইরয়েড বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাতেও দেখা দিতে পারে। তাই বারবার এমন হলে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ক্যাফেইন কমানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

রাতে ঘুম ভেঙে বুক ধড়ফড়? হতে পারে প্যানিক অ্যাটাক