সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

সকালের খাবার বাদ দিচ্ছেন বাকৃবির অধিকাংশ শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত সকালের নাস্তা না করেই ক্লাসে অংশ নেন।জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহের সাত দিন নিয়মিত সকালের নাস্তা করেন। এছাড়া ছাত্রীদের মধ্যে সকালে ফল খাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। প্রায় ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ ছাত্রী নিয়মিত ফল গ্রহণ করেন।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাকৃবি শিক্ষক সমিতির আয়োজনে ‘শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।১৮৬ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত এ জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৪১ শতাংশ ছাত্রী ছিলেন।মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন বলেন, অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী সকালের নাস্তা না করে সরাসরি দুপুরের খাবার খাচ্ছেন, যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য উদ্বেগের বিষয়।তিনি বলেন, সকাল ৮টা থেকে নিয়মিত ক্লাস থাকা দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। রাত জাগার অভ্যাস, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ না থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।অধ্যাপক গোলজার হোসেন জানান, অনেক শিক্ষার্থী রাত ১টা থেকে ২টার আগে ঘুমাতে যান না, কেউ কেউ আরও দেরি করে ঘুমান। ফলে সকালে উঠে নাস্তা করে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলোতে সহজলভ্য ও মানসম্মত ক্যান্টিনের অভাব রয়েছে। ফলে ক্লাসের ফাঁকে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের রাত জাগার অভ্যাস কমানো, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা, প্রতিটি অনুষদে মানসম্মত ক্যান্টিন চালু এবং প্রতি দুই ক্লাসের পর ১০ মিনিট বিরতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পড়াশোনায় মনোযোগ দুটোই বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সকালের খাবার বাদ দিচ্ছেন বাকৃবির অধিকাংশ শিক্ষার্থী