চাঁপাইনবাবগঞ্জে তার ও বাসাবাড়িতে চুরির হিড়িক, আতঙ্কে বাসিন্দারা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় বৈদ্যুতিক তারসহ বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত কয়েক সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগের তার, এয়ারকন্ডিশনারের তার, সাইকেল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায় ইয়ামিন ও নাইমের বাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। স্বর্ণকারপট্টির রমজান আলী মিলনের বাড়িতে কোরবানির ঈদের পর এবং পুরাতনবাজার এলাকার সাধন কুমার ঘোষের বাড়িতেও চলতি মাসে তার চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া প্রায় এক মাস আগে স্কুল-কলেজ রোড এলাকা থেকে একটি বাইসাইকেল চুরি হয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চোরেরা সুযোগ বুঝে বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক তারের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। মিটার ও এয়ারকন্ডিশনারের তার চুরি হওয়ায় অনেক বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এতে গরমের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।স্থানীয়দের কেউ কেউ শহরের বিভিন্ন বস্তি এলাকার মাদকাসক্ত কিশোরদের একটি অংশ এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে প্রকৃত অপরাধীদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।এরই মধ্যে দুই দিন আগে বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগে চার কিশোরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। সচেতন নাগরিকরা আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে সন্দেহভাজনদের পুলিশের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।চুরি প্রতিরোধে শহরে নিয়মিত ও রাতের পুলিশি টহল জোরদার, চোরাই মাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং মাদকাসক্ত কিশোরদের নজরদারি ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, পুলিশি অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকজন চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় চুরির ঘটনা দ্রুত কমে শহরে স্বস্তি ফিরবে-এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।