কক্সবাজারে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি, নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে প্রশাসনের এলাকায় মাইকিং
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।সতর্কতামূলক কার্যক্রমের আওতায় কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী, ঝিলংজা, লিংক রোড, সামিতিপাড়া, উত্তর নুনিয়াছড়া ও দক্ষিণ নুনিয়াছড়াসহ উখিয়া, টেকনাফ, রামু, ঈদগাঁও, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।সোমবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, রেড ক্রিসেন্ট এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা মাঠে নেমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অতীতের পাহাড় ধসের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, কলাতলী, ঝিলংজা, সামিতিপাড়াসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। কেউ যেন পাহাড়ের ঢাল বা পাদদেশে অবস্থান না করেন, সে বিষয়ে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, "যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয়দের অনুরোধ করবো, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করবেন না।"কলাতলী এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, সকাল থেকে প্রশাসনের মাইকিং শুনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। অতীতের দুর্ঘটনার কথা মনে করে আতঙ্ক কাজ করছে।ঝিলংজার বাসিন্দা রেহেনা বেগম বলেন, বৃষ্টি বাড়লেই ভয় লাগে। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অন্যান্য জরুরি সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে জীবন রক্ষায় দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।