মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

সৌদি পাঠ্যবইয়ে বদল, ‘শত্রু’ নয় ইসরায়েল এখন ‘দখলদার’

সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যপুস্তকে ইসরায়েলকে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ভাষাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে ব্যবহৃত ‘জায়নবাদী শত্রু’ শব্দের পরিবর্তে এখন ‘দখলদার’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।একই সঙ্গে নতুন পাঠ্যক্রমে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আচরণ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।শিক্ষা পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা IMPACT-se তাদের সর্বশেষ গবেষণায় জানিয়েছে, সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যক্রম থেকে ইহুদিবিদ্বেষী উপাদানের প্রায় সব উদাহরণই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।সংস্থাটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত ১৩৬টি পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় সৌদি পাঠ্যবইয়ে উগ্রবাদ, বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক বিষয় কমিয়ে সহনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।নতুন ইসলাম শিক্ষা বইয়ে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য আরব গোত্রের শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধের সময় বেসামরিক মানুষের ক্ষতি না করার নীতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের পুরোনো ধারা থেকে সরে এসে শ্রদ্ধা, সংলাপ ও সহাবস্থানের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েল প্রসঙ্গেও আগের তুলনায় অপেক্ষাকৃত পরিবর্তিত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।তবে পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রে এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে হলোকাস্টের কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন পাঠ্যক্রমে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদানকেও আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে নারীদের ছবি ও ভূমিকার উপস্থিতিও বেড়েছে।

সৌদি পাঠ্যবইয়ে বদল, ‘শত্রু’ নয় ইসরায়েল এখন ‘দখলদার’