পরিবেশ কার্নিভাল ২০২৬: টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস পরিবেশ ক্লাবের যৌথ আয়োজনে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিবেশ কার্নিভাল ২০২৬।অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তি, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কার্নিভালে শিক্ষার্থী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশের পরিচালক গাওস পিয়ারী এবং ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের পরিচালক রেহানা পারভীন।ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এখন আর একক কোনো খাতের বিষয় নয়; এটি উন্নয়ন, অর্থনীতি ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি স্থানীয় উদ্যোগ, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এবং তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।গাওস পিয়ারী বলেন, পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্য একে অপরের পরিপূরক। তাই পরিবেশ রক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনযাপন ও নীতিনির্ধারণের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।রেহানা পারভীন বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে পরিবেশগত দায়বদ্ধতার সংযোগ আরও জোরদার করা জরুরি। তিনি শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক গবেষণা ও সামাজিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।কার্নিভালে পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয়। বক্তারা নগরায়ন, বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠান থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ শিক্ষা সম্প্রসারণ, নগর পরিকল্পনায় সবুজায়ন নিশ্চিতকরণ, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, তরুণদের অংশগ্রহণে স্থানীয় পরিবেশ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা জোরদার করা।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।