শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় পরিবেশবান্ধব পর্যটনের আহ্বান

সুনামগঞ্জের জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলজ সম্পদ ও প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষায় পর্যটনকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে হাউসবোট নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত নৌপথে চলাচল এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযানের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি সম্পদের সঠিক ব্যবহার’ শীর্ষক পরামর্শ সভা ও কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। অনুষ্ঠানে টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কার্যক্রম এবং জলাভূমির সম্পদের টেকসই ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক সাহেদা বেগম।সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।আলোচনায় বক্তারা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটন খাত এগিয়ে নিতে হলে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। পর্যটনের নামে যাতে হাওরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য হাউসবোটগুলোকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযানের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ এবং পর্যটক ও নৌযানের জন্য নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা। এতে হাওরের তলদেশ, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব হবে বলে মত দেন বক্তারা।হাওরে কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। পানি, মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি কমাতে কৃষকদের সচেতন করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়।এ ছাড়া অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের পরিবর্তে পরিকল্পিত ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং হিজল-করচসহ দেশীয় জলসহিষ্ণু বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।পর্যটনকেন্দ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। হাউসবোট ও পর্যটকদের মাধ্যমে প্লাস্টিক, পলিথিন ও খাবারের উচ্ছিষ্টসহ কোনো ধরনের বর্জ্য যাতে হাওরে না পড়ে, সেজন্য কার্যকর সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও অপসারণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।বক্তারা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের আধার। হাওরের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, মৎস্যসম্পদ ও কৃষির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রতিবেশব্যবস্থা সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।তাদের মতে, টাঙ্গুয়ার হাওরকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখতে প্রশাসন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, নৌযান মালিক, পরিবেশ অধিদপ্তর, গবেষক ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা করে দায়িত্বশীল পর্যটনের বিকাশ ঘটানো গেলে হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সুযোগও বাড়বে।

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় পরিবেশবান্ধব পর্যটনের আহ্বান