বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল, নিহত ৯৫: নিখোঁজ ৫০০

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিকসহ অন্তত ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন।বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকালে রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া এলাকায় তিব্বত থেকে ভোতে কোশি নদীর মাধ্যমে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ও কাদা নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় থাকা পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয় (এনআরআই), ১৭ জন মালয়েশিয়ান, ১২ জন ব্রিটিশ, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন মার্কিন নাগরিক, ১ জন অস্ট্রেলিয়ান, ১ জন ডাচ নাগরিক এবং আরও ১১১ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারা সবাই পর্যটক হিসেবে নেপালে অবস্থান করছিলেন।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রায় থাকা প্রায় ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৪০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় ১৪টি হেলিকপ্টার ও কয়েকশ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান দ্রুত এগিয়ে নিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এদিকে ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাসুয়াগড়ি, চিলিমে, ত্রিশুলি-৩এ, ত্রিশুলি-৩বি সাবস্টেশন, ত্রিশুলি ও দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যাহত হয়েছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক ডেকে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, লেন্দে নদীতে বরফ ধসের কারণে পানির প্রবাহ আটকে যায়। পরে জমে থাকা পানি একসঙ্গে ভোতে কোশি নদীতে নেমে এসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে বরফ সরে গিয়ে এই আকস্মিক পানির প্রবাহ তৈরি হতে পারে।

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল, নিহত ৯৫: নিখোঁজ ৫০০