শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

বাল্যবিবাহের শিকার নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ‘সুতোর কাব্য’

একটি সুঁই, একটি সুতো আর নতুন করে বাঁচার গল্প... এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাল্যবিবাহের শিকার ও ঝরে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ ‘সুতোর কাব্য’ চালু করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-এর একদল শিক্ষার্থী।উদ্যোক্তারা জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা থাকলেও যারা ইতোমধ্যে বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে সংসারজীবনে বাধ্য হয়েছেন, তাদের অর্থনৈতিক ও মানসিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ খুবই সীমিত। সেই বাস্তবতা থেকেই তাদের হাতে থাকা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘সুতোর কাব্য’।এই উদ্যোগের কো-ফাউন্ডার হিসেবে কাজ করছেন হাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল আলী, আরফিন জাহান স্বর্ণা, মিসকে জান্নাত, রিমু সোলায়মান ও রিমন চৌধুরী।উদ্যোক্তারা বলেন, আত্মনির্ভরতা শুধু অর্থ উপার্জনের বিষয় নয়; এটি নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও পরিচয় ফিরে পাওয়ার একটি পথ। তারা চান, নারীদের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্পের সঠিক মূল্যায়ন ও টেকসই বাজার তৈরি করে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেওয়ার মতো সক্ষম করে তুলতে।শুধু অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নয়, ‘সুতোর কাব্য’ একটি সচেতন ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ার লক্ষ্যেও কাজ করছে। ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে নিয়মিত সেমিনার ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।উদ্যোগটির অন্যতম বিশেষ দিক হলো সবুজ অঙ্গীকার। বিক্রিত প্রতিটি পণ্য থেকে ২ টাকা গাছ রোপণ তহবিলে সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া ৩০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনলে ক্রেতাকে উপহার হিসেবে একটি গাছের চারা দেওয়া হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, সমাজের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘সুতোর কাব্য’ একদিন বাল্যবিবাহের শিকার অসংখ্য নারীর জীবনে আত্মবিশ্বাস, স্বাবলম্বিতা ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

বাল্যবিবাহের শিকার নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ‘সুতোর কাব্য’