সাভারে বোমা ল্যাবের পরিকল্পনা, নব্য জেএমবি সদস্য গ্রেপ্তার
ঢাকার সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্যরা বোমা তৈরির শক্তিশালী ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আরিফ ওরফে ইমরানের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ল্যাব স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।উদ্ধার হয়েছে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জামপুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম, ডেটোনেটর, রিমোট কন্ট্রোলার, বৈদ্যুতিক তার, পাইপসহ নানা আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।এ ছাড়া পাঁচটি নিষ্ক্রিয়কৃত পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। জননিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় সেগুলো ঘটনাস্থলেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।বড় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগসিটিটিসি সূত্রের দাবি, নব্য জেএমবির সদস্য নাজমুল হাসান মামুন বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই সাভারে আস্তানা তৈরি করা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা।তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংগঠনের কার্যক্রম, সহযোগী সদস্য এবং সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।মামলায় যাদের নাম রয়েছেসিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬), মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), মো. আক্কাস আলী (৩০), কামাল হোসেন ডাক্তার (৪৫), বাক্মী (৩০) ও রাকিব (৩০)।মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।তদন্ত চলছেপুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক, বিস্ফোরক সরঞ্জাম ও অন্যান্য আলামত কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া সাভার ও আশপাশের এলাকায় আরও কোনো আস্তানা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।