নবী-রাসুলদের জীবিকা শ্রমের মহিমান্বিত দৃষ্টান্ত
মানবসমাজে শ্রমের মর্যাদা অপরিসীম। ইসলাম এই শ্রমকে ইবাদতের মর্যাদায় উন্নীত করেছে। যারা পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জন করেন, ইসলাম তাদের সম্মানিত ও মর্যাদাবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নবী-রাসুলরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হয়েও নিজেদের জীবিকা অর্জনে পরিশ্রমকে বেছে নিয়েছিলেন যা মানবজাতির জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।হজরত মুহাম্মদ (সা.) শৈশবে বকরি চরিয়েছেন এবং কৈশোরে ব্যবসায় যুক্ত হন। নবুওয়তের আগে তিনি খাদিজা (রা.) এর পণ্য নিয়ে সিরিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করেন।হজরত আদম (আ.) ছিলেন প্রথম মানব এবং তিনি কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কোনো কোনো বর্ণনায় তাঁতের কাজেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা পাওয়া যায়।হজরত শিস (আ.) ও কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন। অন্যদিকে হজরত ইদরিস (আ.) কাপড় সেলাই করতেন এবং তিনিই সর্বপ্রথম সেলাইবিদ্যা ও কলম ব্যবহারের সূচনা করেন বলে বর্ণিত আছে।হজরত নুহ (আ.) ছিলেন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি। আল্লাহর নির্দেশে তিনি মহাপ্লাবন থেকে রক্ষার জন্য বিশাল নৌকা নির্মাণ করেন।হজরত ইবরাহিম (আ.) ব্যবসা, কৃষি ও পশুপালনে যুক্ত ছিলেন। তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) পশু শিকার করতেন এবং তারা উভয়ে মিলে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন।হজরত ইউসুফ (আ.) মিসরের খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন। হজরত মুসা (আ.) দীর্ঘ সময় পশুপালনের কাজ করেছেন।হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর হজরত জাকারিয়া (আ.) ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি।
নবী-রাসুলদের এই জীবনধারা প্রমাণ করে শ্রম কোনো ছোট কাজ নয়, বরং এটি সম্মানজনক ও ইবাদতের সমতুল্য। তাদের অনুসরণ করে প্রতিটি মানুষের উচিত পরিশ্রমের মাধ্যমে হালাল জীবিকা অর্জন করা এবং শ্রমের মর্যাদা রক্ষা করা।