ইউএনওর ত্রাণ, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ডিসির চিঠি
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার। একই সঙ্গে তাঁর দেওয়া প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (বাপাউবো) চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।সরেজমিনে নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া এলাকায় দেখা যায়, তিস্তার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীতীর ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। প্রচণ্ড স্রোতে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরের টিন, দরজা-জানালা ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দিনের ভাঙনে অন্তত ৮টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং শত বিঘা আবাদি জমি হারিয়ে গেছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমার পর ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।এদিকে ইউএনও জেসমিন আক্তার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠান।ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রংপুরের জেলা প্রশাসক ২৩ জুলাই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।চিঠিতে আরও জানানো হয়, চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে ভাঙনরত নদীতীর থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে রয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারাতে হচ্ছে। সাময়িক ত্রাণ কিছুটা স্বস্তি দিলেও স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ কমছে না। তারা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নোহালী ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা, বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিস্তার ভাঙনের কবলে পড়তে পারে।