বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

‎মরক্কো সহ ১২ দেশের সুফি স্কলাররা অংশ নিলেন ঢাকার মাইজভাণ্ডারী আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশে

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাইজভাণ্ডারী আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশে মরক্কোসহ ১২ দেশের সুফি স্কলার, ধর্মীয় প্রতিনিধি ও গবেষকরা অংশ নিয়েছেন।বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ‘আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া’র উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস ও আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন এবং পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফীজের প্রেসিডেন্ট হযরত শাহছুফি শায়খ সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী।জুলুসে অংশ নেওয়া মানুষের সাদা পোশাক, টুপি, কালেমাখচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক মুখর হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মানুষ সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হন।শোভাযাত্রায় ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। ধর্মীয় স্লোগান ও নবীপ্রেমের আবেগে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।সমাবেশে শাহ সুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।তিনি বলেন, মহানবী (সা.) মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার সময়ে তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি।বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর শিক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে তুরস্ক, মরক্কো, কানাডা, শ্রীলঙ্কা, জর্ডান, সৌদি আরব, সোমালিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, লেবানন, ব্রাজিল, পাকিস্তান ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন।সমাবেশে অধ্যাপক ড. হাসান বাশিস (তুরস্ক), শায়খ ড. আবদুল্লাহ শরিফ আল উজানি ও শায়খ ড. সাইয়্যেদি আলী মাউন (মরক্কো), শায়খ ড. আব্দুল বারী (সোমালিয়া), শায়খ ড. বাজৌ (লেবানন), ড. আহমেদ তিজানি বিন ওমর, ড. মাযেন চেরিফ, সৈয়দ সালমান চিস্তীসহ বিভিন্ন দেশের সুফি গবেষক ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন, শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক এমিরেটস ড. আনিসুজ্জামান, খলিফা আলমগীর খানসহ দেশীয় আলেম, গবেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে নারী অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। পরে দেশ, জাতি, শান্তি ও মানবতার কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

‎মরক্কো সহ ১২ দেশের সুফি স্কলাররা অংশ নিলেন ঢাকার মাইজভাণ্ডারী আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশে