দাদার সম্পত্তিতে নাতনির কত অংশ? জানুন ৬ নিয়ম
দাদার সম্পত্তিতে নাতনির অধিকার নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামী শরিয়াহ ও ফারায়েজের বিধান অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নাতনির অংশ নির্ধারিত হয় মৃত ব্যক্তির সন্তান ও অন্যান্য ওয়ারিশ জীবিত থাকা বা না থাকার ওপর ভিত্তি করে।ইসলামে উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কোরআনে প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর নির্ধারিত অংশ বর্ণনা করা হয়েছে। তাই শরিয়াহ অনুযায়ী প্রাপ্য অংশ কাউকে বঞ্চিত করা বা ইচ্ছামতো কমবেশি করার সুযোগ নেই।‘ফারায়েজ আইন’ বইয়ে আইনবিদ গাজী শামছুর রহমান নাতনির উত্তরাধিকার বিষয়ে ছয়টি অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন।১. একজন নাতনি থাকলে
মৃত ব্যক্তির কোনো ছেলে বা মেয়ে না থাকলে এবং একজন নাতনি থাকলে, তিনি মোট সম্পত্তির অর্ধেক বা দুই ভাগের এক ভাগ পাবেন।২. একাধিক নাতনি থাকলে
মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকলে একাধিক নাতনি থাকলে তারা সম্মিলিতভাবে সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবেন। এই অংশ তাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে।৩. একজন মেয়ে থাকলে
মৃত ব্যক্তির একজন মেয়ে থাকলে এবং এক বা একাধিক নাতনি থাকলে, নির্ধারিত শর্তে নাতনিরা সম্মিলিতভাবে সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন।৪. ছেলে জীবিত থাকলে
মৃত ব্যক্তির ছেলে জীবিত থাকলে নাতনি সাধারণভাবে দাদার সম্পত্তিতে অংশ পান না।৫. একাধিক মেয়ে থাকলে
মৃত ব্যক্তির ছেলে না থাকলেও দুই বা ততোধিক মেয়ে থাকলে সাধারণ নিয়মে নাতনিরা নির্ধারিত অংশ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।৬. আসাবা হিসেবে নাতনির অংশ
নাতনির সঙ্গে তার ভাই বা উপযুক্ত পুরুষ উত্তরাধিকারী থাকলে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত অংশের পরিবর্তে অবশিষ্ট সম্পত্তিতে আসাবা হিসেবে অংশ পাওয়ার বিধান রয়েছে। তখন ‘এক পুরুষের অংশ দুই নারীর সমান’ নীতিতে সম্পত্তি বণ্টন করা হয়।তবে বাস্তবে উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের সময় মৃত ব্যক্তির সব জীবিত ওয়ারিশের সম্পর্ক ও অবস্থান বিবেচনা করতে হয়। ফলে শুধু নাতনি আছেন কি না এ তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত অংশ নির্ধারণ করা যায় না।গাজী শামছুর রহমান (১৯২১–১৯৯৮) ছিলেন বাংলাদেশি আইনবিদ, আইন সংস্কারক, বিচারক ও ভাষাবিদ। বাংলায় আইনবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক।
তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবেও কর্মজীবন শেষে অবসর নেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।