রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

তোকমা বীজেই কমবে কোলেস্টেরল? জানুন গবেষণার তথ্য

গরমের দিনে শরবত বা পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া ছোট কালো বীজ তোকমা এখন শুধু পানীয়ের উপকরণ নয়, স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবেও জনপ্রিয়। ওজন নিয়ন্ত্রণ, কোষ্ঠকাঠিন্য কমানো, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও কোলেস্টেরল কমানোর সম্ভাব্য উপকারের কারণে অনেকেই এটি খাদ্যতালিকায় যুক্ত করছেন।তবে প্রশ্ন হলো শুধু তোকমা বীজ খেলেই কি কোলেস্টেরল কমে যায়?বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর হলো না। তোকমা বীজে থাকা খাদ্যআঁশ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটিকে কোলেস্টেরল কমানোর চিকিৎসা হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই।তোকমা বীজে কী থাকে?তোকমা বা সাবজা বীজ তুলসীজাতীয় একটি উদ্ভিদের বীজ। পানিতে ভিজলে এর চারপাশে জেলির মতো আবরণ তৈরি হয়। এতে রয়েছে খাদ্যআঁশসহ কিছু খনিজ উপাদান।এই আঁশ হজম প্রক্রিয়া ধীর করতে এবং শরীরের কিছু ক্ষতিকর উপাদান নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।কোলেস্টেরল কমাতে কীভাবে কাজ করতে পারে?গবেষণায় দেখা গেছে, পানিতে দ্রবণীয় আঁশ মোট কোলেস্টেরল ও এলডিএল (ক্ষতিকর) কোলেস্টেরলের মাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।তোকমা বীজের জেলির মতো আঁশ অন্ত্রে কিছু উপাদান আটকে রাখতে পারে। তবে তোকমা বীজ নিয়ে মানুষের ওপর বড় পরিসরে গবেষণা এখনো সীমিত।অর্থাৎ, সম্ভাবনা থাকলেও এটি কোলেস্টেরল কমানোর নিশ্চিত উপায় নয়।ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারেপানিতে ভিজলে তোকমা বীজ ফুলে যায় এবং পেটে কিছুটা পরিপূর্ণতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। এতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।তবে শুধু তোকমা খেলেই ওজন কমবে না। সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই মূল বিষয়।কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকাতোকমা বীজের আঁশ অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে মল নরম হতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।তবে বেশি পরিমাণে আঁশ খেলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।রক্তে শর্করার ওপর প্রভাবআঁশযুক্ত খাবার খাবার পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে। তাই তোকমা বীজ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।তবে এটি কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়।কীভাবে খাবেন তোকমা বীজ?সাধারণত তোকমা বীজ পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া হয়। এক থেকে দুই চা-চামচ বীজ ১৫ থেকে ২০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে শরবত, দই বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।শুকনো অবস্থায় বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়। কারণ এটি পানি শোষণ করে ফুলে যায়, ফলে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।কারা সতর্ক থাকবেন?যাদের গিলতে সমস্যা রয়েছে, অতিরিক্ত পেট ফাঁপার সমস্যা আছে বা নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করেন, তাদের নিয়মিত তোকমা খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।কোলেস্টেরলের ওষুধ বন্ধ করা যাবে?না। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে যারা ওষুধ গ্রহণ করছেন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। তোকমা বীজ হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ, কিন্তু কোলেস্টেরল কমানোর একমাত্র সমাধান নয়। সঠিক খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

তোকমা বীজেই কমবে কোলেস্টেরল? জানুন গবেষণার তথ্য