শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন গতি, উত্তরাঞ্চলে আশার আলো

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং ৯ সদস্যের প্রকৌশলী দল। পরিদর্শন শেষে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটি দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রতিনিধি দলটি তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকা, তিস্তা ব্যারেজ, সেচ ক্যানেল, নদীভাঙন কবলিত অঞ্চল এবং নদীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা নদীর প্রবাহ, ভাঙন পরিস্থিতি, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন।পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেস্ট হাউসে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রকল্পের কারিগরি ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ে ৯ সদস্যের প্রকৌশলী দল কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি জানান, তিস্তা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। দেশের নিজস্ব অর্থায়নেই ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু নদীশাসন বা পানি ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি কৃষি, সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।মতবিনিময় সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের শীর্ষ প্রকৌশলী, পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর গবেষকদের সমন্বয়ে প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে একনেকে পাঠানো হবে।দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, এবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘদিনের সমস্যা ও দুর্ভোগের টেকসই সমাধান হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন গতি, উত্তরাঞ্চলে আশার আলো