বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

‎হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা; তিস্তার ভাঙনে প্রতি মুহূর্তে হারাচ্ছে ঘরবাড়ি

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও অনেক এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে।বন্যার পানিতে দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের হাত ধরে পানির মধ্য দিয়ে স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।সরেজমিনে নোহালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, গ্রামের কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি। শিক্ষার্থীরা জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে পানি পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও রোগীদেরও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।পানি কমতে শুরু করলেও নতুন করে ভয়াবহ আকার নিয়েছে নদীভাঙন। নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় তিস্তার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে অন্তত ৮টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত শত বিঘা আবাদি জমি হারিয়ে গেছে নদীতে।ভাঙনের কবল থেকে শেষ সম্বল রক্ষায় অনেকে ঘরের টিন, ইট, কাঠ ও গৃহস্থালির মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। নদীতীরবর্তী পরিবারগুলো কাটাচ্ছেন আতঙ্কের রাত।এদিকে গঙ্গাচড়া-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় রংপুর-লালমনিরহাটের সরাসরি সড়ক যোগাযোগও হুমকির মুখে পড়েছে। এতে নদীপাড়ের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মোত্তালেব হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বলেন, নদী তাদের সাজানো সংসার মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে একাধিক বসতবাড়ি ও বিপুল কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাঙনরোধ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা; তিস্তার ভাঙনে প্রতি মুহূর্তে হারাচ্ছে ঘরবাড়ি