সিগারেটের দাম বাড়ানোর আহ্বান: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রস্তাব জোরালো
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যে কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মে সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরা হয়।আয়োজক ছিল আহছানিয়া মিশন। বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে তামাকের ব্যবহার কমবে, অকাল মৃত্যু হ্রাস পাবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।সংবাদ সম্মেলনে সিগারেটের বিদ্যমান চারটি স্তর কমিয়ে তিনটি স্তর করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০, ১৫০ ও ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বজায় রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানানো হয়।এ সময় বক্তারা আরও বলেন, সব ধরনের তামাকপণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখা উচিত। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আয় সম্ভব, যা বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের তুলনায় সিগারেটের দাম অনেক কম হারে বাড়ায় এটি সহজলভ্য হয়ে উঠছে, যা তরুণদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।অন্যান্য বক্তারা বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও বিড়ি-সিগারেটের দাম তেমন বাড়েনি, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণরা সহজেই তামাকের দিকে ঝুঁকছে। এজন্য কার্যকর করনীতি জরুরি।সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশ। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখনই শক্তিশালী করনীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মোখলেছুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গবেষক, সংগঠক এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।