কুড়িগ্রামে নদীভাঙন: জিও ব্যাগে সমাধান নয়, চাই স্থায়ী বাঁধ
বাংলাদেশের অন্যতম নদীবিধৌত জেলা কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে। প্রায় ২৩ লাখ মানুষের এই জেলায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করেন। প্রতি বছর একাধিকবার বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, নষ্ট হয় হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি।লেখকের মতে, নদীভাঙনের ফলে চরাঞ্চলের বহু মানুষ বসতভিটা হারিয়ে সমতলে চলে আসছেন। এতে উর্বর কৃষিজমি দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জেলার খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত জিও ব্যাগ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়। নদীর তীব্র স্রোত, ঘূর্ণাবর্ত ও তলদেশের চাপের কারণে এসব ব্যাগ অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানচ্যুত বা নষ্ট হয়ে যায়। অথচ প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলার পরও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।লেখকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্থায়ী সিসি ব্লক, গাইড বাঁধ নির্মাণ এবং নিয়মিত ক্যাপিটাল ড্রেজিংই হতে পারে কুড়িগ্রামের নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। যদিও এসব প্রকল্পের ব্যয় তুলনামূলক বেশি, তবে ৩০ থেকে ৫০ বছরের স্থায়িত্বের কারণে এটি অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি লাভজনক।প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের নদীগুলোতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পলি জমলেও ড্রেজিং সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে নদীর নাব্যতা কমে গিয়ে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। কুড়িগ্রামের নদীগুলো সচল রাখতে বছরে অন্তত ১.৫ থেকে ২ কোটি ঘনমিটার পলি অপসারণ এবং ১২ থেকে ১৫টি আধুনিক ড্রেজার দিয়ে নিয়মিত ড্রেজিং পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।লেখক বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে বা মহাসড়ক নির্মাণের তুলনায় নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্যয় তুলনামূলক কম। তাই কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার ঝুঁকিপূর্ণ তীরগুলোতে ধাপে ধাপে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করলে কয়েক বছরের মধ্যেই নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।রাজবাড়ী, যমুনা ও মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সফল উদাহরণ তুলে ধরে লেখক মনে করেন, একই ধরনের পরিকল্পনা কুড়িগ্রামেও বাস্তবায়ন করা গেলে নদীভাঙন কমবে, কৃষিজমি রক্ষা পাবে এবং হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।লেখকের ভাষ্য, নদীতে প্রতি বছর জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক সমাধানের চেষ্টা না করে এখনই স্থায়ী নদী শাসন, পরিকল্পিত ড্রেজিং এবং আধুনিক নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এসেছে।