গ্রামীণফোনের ডিজিটাল উদ্যোগের দ্বিতীয় ধাপ শুরু
দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে গ্রামীণফোন।প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত এই উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন ও প্রথম পর্যায়ের সাফল্য উদযাপন করা হয় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল ও গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।আলোচনায় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে শুধু প্রযুক্তির সুবিধা নয়, প্রয়োজন ডিজিটাল জ্ঞান, নিরাপদ ব্যবহার এবং দক্ষতা উন্নয়ন।গ্রামীণফোন জানায়, উদ্যোগটি চালুর পর থেকে দেশের ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ নারী ও কিশোরী। নতুন পর্যায়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সুবিধাভোগীদের ৭০ শতাংশ নারী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রথম পর্যায়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষা, অনলাইন সরকারি সেবা গ্রহণ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন এবং অনলাইন আয়ের মতো বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল দক্ষতায় দক্ষ করে তোলার উদ্যোগগুলো দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, অর্থবহ কানেক্টিভিটির জন্য শুধু নেটওয়ার্ক নয়, প্রয়োজন ডিজিটাল সাক্ষরতা ও প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার।গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, ডিজিটাল দক্ষতা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য শিক্ষা, জীবিকা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার নতুন সুযোগ তৈরি করছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই জীবিকা ও তরুণদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, প্রযুক্তির সুবিধা তখনই কার্যকর হয়, যখন সবাই নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তা ব্যবহার করতে পারে।