সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

বাথরুমে টুথব্রাশ রাখছেন? অজান্তেই যে ভুল

সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু দাঁত পরিষ্কার করার যে টুথব্রাশটি প্রতিদিন মুখে ব্যবহার করছেন, সেটি কোথায় এবং কীভাবে রাখছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।অনেকেই বাথরুমের বেসিনের পাশে, টয়লেটের কাছাকাছি কিংবা কোনো ব্রাশ হোল্ডারে টুথব্রাশ রাখেন। এতে সুবিধা হলেও বাথরুমের আর্দ্র পরিবেশ ও টয়লেটের কাছাকাছি থাকার কারণে ব্রাশে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু জমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।তবে বাথরুমে টুথব্রাশ রাখলেই অসুস্থ হয়ে পড়তে হবে—এমন নয়। বরং টুথব্রাশ সঠিকভাবে পরিষ্কার, শুকানো ও সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।টুথব্রাশে জীবাণু জমে কেন?ব্যবহারের পর টুথব্রাশের ব্রিসল সাধারণত ভেজা থাকে। আর্দ্র ও বাতাস চলাচল কম এমন জায়গায় রাখলে সেখানে বিভিন্ন অণুজীব থাকার সুযোগ বাড়তে পারে।একই পাত্রে পরিবারের একাধিক টুথব্রাশ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে রাখলেও এক ব্রাশ থেকে অন্য ব্রাশে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।টয়লেট ফ্লাশের সঙ্গেও সম্পর্ক আছেটয়লেট ফ্লাশ করার সময় পানির ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব কণার মাধ্যমে টয়লেটের জীবাণু আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকে।তবে ফ্লাশের কণা টুথব্রাশে গিয়ে পড়লেই গুরুতর সংক্রমণ হবে—এমন সরাসরি প্রমাণ নেই। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।তারপরও টুথব্রাশকে টয়লেট থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা এবং ফ্লাশের সময় কমোডের ঢাকনা বন্ধ রাখা ভালো স্বাস্থ্যবিধির অংশ।ভেজা টুথব্রাশ ঢেকে রাখবেন নাটুথব্রাশ ব্যবহারের পর অনেকে সেটি সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিকের ক্যাপ বা বন্ধ পাত্রে রেখে দেন। কিন্তু ভেজা ব্রাশ এভাবে ঢেকে রাখলে ভেতরে আর্দ্রতা আটকে যায় এবং জীবাণু বৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি হতে পারে।আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ অনুযায়ী, ব্যবহারের পর টুথব্রাশ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে খোলা অবস্থায় সোজা করে রাখা ভালো।টুথব্রাশ কোথায় রাখবেন?বাথরুমেই রাখতে হলে এমন জায়গা বেছে নিন, যেখানে বাতাস চলাচল করে এবং ব্রাশ দ্রুত শুকাতে পারে। পাশাপাশি— টয়লেট থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন। টুথব্রাশ সোজা করে রাখুন। অন্যের ব্রাশের সঙ্গে ব্রিসল লাগতে দেবেন না। ব্যবহারের পর ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ব্রাশ শুকানোর সুযোগ দিন। ভেজা ব্রাশ বন্ধ পাত্রে রাখবেন না। পরিবারের সবার ব্রাশ আলাদা রাখুনএকই হোল্ডারে পরিবারের সবার টুথব্রাশ রাখা খুবই সাধারণ। কিন্তু ব্রিসল পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকলে জীবাণু স্থানান্তরের সম্ভাবনা থাকে।তাই প্রত্যেকের টুথব্রাশ আলাদা করে রাখা ভালো। পরিবারের কেউ অসুস্থ থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।ব্রাশ পরিষ্কারের সহজ নিয়মপ্রতিবার দাঁত ব্রাশ করার পর পরিষ্কার পানিতে ব্রিসল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। টুথপেস্ট বা খাবারের কণা লেগে থাকলে সেগুলো সরিয়ে ফেলুন। এরপর অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় সোজা করে রাখুন।টুথব্রাশ পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করার প্রয়োজন নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত অপ্রয়োজনীয় জীবাণু জমা ও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমানো।কতদিন পর টুথব্রাশ বদলাবেন?আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণভাবে তিন থেকে চার মাস পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। তবে ব্রিসল তার আগেই ছড়িয়ে গেলে বা ক্ষয়ে গেলে দ্রুত নতুন ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো।অসুস্থ হলেই সবার জন্য টুথব্রাশ বদলানো বাধ্যতামূলক—এমন প্রমাণ নেই। বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেনভেজা ব্রাশ বন্ধ পাত্রে রাখা: এতে আর্দ্রতা আটকে যায়।অন্যের ব্রাশের সঙ্গে লাগিয়ে রাখা: জীবাণু স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হয়।ব্রাশ না ধুয়ে রাখা: ব্রিসলে টুথপেস্ট ও খাবারের কণা জমে থাকতে পারে।অনেকদিন একই ব্রাশ ব্যবহার করা: পুরোনো ব্রিসল কার্যকারিতা হারাতে পারে।টয়লেটের একেবারে পাশে রাখা: ফ্লাশের সময় ছড়িয়ে পড়া কণা ব্রাশের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়াতে পারে।বাথরুমে টুথব্রাশ রাখার কারণে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিষ্কার, শুকনো ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। ব্যবহারের পর ব্রাশ ভালোভাবে ধুয়ে নিন, সোজা করে শুকাতে দিন, অন্যের ব্রাশ থেকে আলাদা রাখুন এবং টয়লেট থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন। পাশাপাশি ব্রিসল ক্ষয়ে গেলে বা সাধারণভাবে তিন থেকে চার মাস পর টুথব্রাশ বদলে ফেলুন।

বাথরুমে টুথব্রাশ রাখছেন? অজান্তেই যে ভুল