বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

ঈদের আগে টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে ভুরুঙ্গামারীবাসী

আর মাত্র একদিন পর পবিত্র ঈদুল আযহা। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলাজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কেউ ব্যস্ত কোরবানির পশু কেনাবেচা নিয়ে, আবার কেউ ঈদের বাজার ও প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় ছুটছেন বিভিন্ন হাট-বাজারে। তবে ঈদের আনন্দের মাঝেও টানা বৃষ্টি হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ।গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলোতে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন মানুষ। অনেক এলাকায় পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা নারী, পুরুষ ও শিশুদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।ভুরুঙ্গামারীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে আগের তুলনায় ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও ব্যবসায়ীরা শেষ মুহূর্তের বিক্রির আশায় দোকান খুলে বসে আছেন। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ হওয়ায় মসলার দোকানগুলোতে কিছুটা ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।এদিকে কোরবানির পশুর হাটেও দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। কাদাময় পরিবেশের কারণে পশু আনা-নেওয়া করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারি ও ব্যবসায়ীদের। অনেক ক্রেতা জানান, বৃষ্টির কারণে হাটে গিয়ে পশু দেখতে ও কিনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবুও ঈদকে সামনে রেখে শেষ সময়ে পশু কেনার জন্য হাটে ভিড় বাড়ছে।শুধু ব্যবসায়ী বা ক্রেতারাই নয়, টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষ নিয়মিত কাজ করতে না পারায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই জানান, ঈদের আগে পরিবার নিয়ে ভালো সময় কাটানোর আশা থাকলেও বৃষ্টির কারণে আয় কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তবে সকল দুর্ভোগের মাঝেও ঈদের আনন্দে ভাটা পড়তে দিতে চান না সাধারণ মানুষ। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন অনেকে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষও।

ঈদের আগে টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে ভুরুঙ্গামারীবাসী