মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

জিপিএ-৫ পেয়েও ঘরে নীরবতা, মিষ্টি-ফল নিয়ে পাশে ছাত্রদল নেতা

কুড়িগ্রামে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও সন্তানের সাফল্যের আনন্দ উদযাপনের সামর্থ্য ছিল না এক দরিদ্র পরিবারের। সেই নীরব আনন্দে মিষ্টি ও ফল নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা।কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন রেলস্টেশন পাড়ার মো. হামু মিয়ার ছেলে হাসিবুল হাছান বিজয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কুড়িগ্রাম রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন।সন্তানের এমন কৃতিত্বে পরিবারের চোখে ছিল আনন্দ, কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ছিল না মিষ্টি বিতরণ বা কোনো আয়োজন। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা নিজ উদ্যোগে ছুটে যান ওই পরিবারের বাড়িতে।তিনি সঙ্গে নিয়ে যান মিষ্টির প্যাকেট ও ফলের ঝুড়ি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি। হঠাৎ এমন উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হামু মিয়া। সন্তানের কৃতিত্বের আনন্দ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় পরিবারে।প্রতিবেশী মোছা. আনোয়ারা বেগম বলেন, হামু খুব গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছে। নিজের চেষ্টা ও স্বজনদের সহযোগিতায় ছেলে ভালো ফলাফল করেছে। এতে পুরো এলাকার মানুষ গর্বিত।হামু মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ছেলের জন্য মিষ্টি কিনে আনন্দ করার সামর্থ্য ছিল না। কিন্তু সোহেল রানা ভাই খবর পেয়ে বাড়িতে এসে মিষ্টি-ফল নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন।জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী হাসিবুল হাছান বিজয় বলেন, আমার ফলাফলের খবর শুনে সোহেল রানা ভাই যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও তিনি অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন এটাই প্রত্যাশা।কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্য সমাজের জন্য আনন্দের বিষয়। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তিনি হাসিবুলের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অভাব শেষ পর্যন্ত থামাতে পারেনি মেধার জয়। এক শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫-এর আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়, আর সেই আনন্দের অংশীদার হয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সোহেল রানা।

জিপিএ-৫ পেয়েও ঘরে নীরবতা, মিষ্টি-ফল নিয়ে পাশে ছাত্রদল নেতা