সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সিএ রিমন সরকারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের হিসাব সহকারী (সিএ) রিমন সরকারের বিরুদ্ধে পরকীয়া, গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে, কাবিননামা জালিয়াতি এবং স্ত্রীকে তালাক দিতে চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে সংসার রক্ষা ও দুই কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী সায়মা শফি তন্বী।আদালতে দেওয়া লিখিত আবেদনে সায়মা দাবি করেন, ২০১৯ সালের ২০ জুন পারিবারিকভাবে রিমন সরকারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর পর দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।সায়মার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রিমন সরকার ঢাকায় প্রশিক্ষণে গেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর জান্নাতুল সাবরিন মিতুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।লিখিত আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৯ মে চুয়াডাঙ্গার আক্কাস আলী পার্কে রিমন সরকার ও মিতুকে আপত্তিকর অবস্থায় কয়েকজন পর্যটক দেখতে পান এবং ঘটনাটি ভিডিও করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও অভিযোগ করেন সায়মা।এরপর মিতুর চাকরি রক্ষার উদ্দেশ্যে রিমন সরকারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে—এমন দাবি করে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদে আবেদন দেওয়া হয় বলে সায়মার অভিযোগ। ওই আবেদনের সঙ্গে একটি কাবিননামা জমা দেওয়া হয়েছিল, যাতে বিয়ের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।সায়মার অভিযোগ, কাবিননামাটি যাচাই করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন এটি প্রকৃত নয় এবং কাজীর স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহারে জালিয়াতি করা হয়েছে। এ বিষয়ে নরসিংদীতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।প্রথম কাবিননামা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর রিমন সরকার ও মিতু ঝিনাইদহের একটি কাজী অফিসে আবার বিয়ে করেন এবং সেই কাবিননামাও সংশ্লিষ্ট নথিতে জমা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সায়মা।এদিকে, প্রথম স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, তাঁকে দুই সন্তানসহ তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তালাকনামায় স্বাক্ষর না করলে তাঁকে ও সন্তানদের ক্ষতি করার ভয় দেখানোরও অভিযোগ করেছেন তিনি।এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সংসার রক্ষা এবং দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দাবিতে আদালতের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদেও আবেদন করেছেন সায়মা। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে জান্নাতুল সাবরিন মিতুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে রিমন সরকার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, প্রথম স্ত্রী সায়মার অভিযোগের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের মিল নেই। পরকীয়া, দ্বিতীয় বিয়ে ও কাবিননামা জালিয়াতির অভিযোগের দায়ও তিনি স্বীকার করেননি।কাবিননামা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে রিমনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কাজী কার্যালয়ের রেজিস্টার, কাবিননামা ও সরকারি নথি যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য পরিষ্কার হবে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে পরবর্তীতে মিতুর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি জড়িয়ে গেছে।