শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

সৈয়দপুরে মিয়া গোলাম পরওয়ার: চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হবে জামায়াতকে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনা ও দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।তিনি বলেন, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বাগ্রে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। আদর্শের চর্চা ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষের সমস্যা উপলব্ধি করে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি মতপার্থক্য মোকাবিলায় সহনশীলতা ও হিকমত অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) থেকে শনিবার (১৫ আগস্ট) পর্যন্ত নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক শিবির সভাপতি মো. দেলওয়ার হোসেন।১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে—এমন অভিযোগের প্রতিবাদ এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দল রোড মার্চসহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি পরিবার সুরক্ষা ও গঠনের দিকেও নজর দিতে হবে। নেতৃবৃন্দকে নিয়মিত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, সংগঠনের মেজাজ ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। সংগঠনের পরিবেশ ক্ষুণ্ন করতে পারে-এমন কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে। পরস্পরের দোষত্রুটি ব্যক্তিগতভাবে দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা এবং অহংকারমুক্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, তিন দিনের প্রশিক্ষণকে ধারণ করে আগামী দিনে সংগঠনকে আরও মজবুত, গতিশীল ও গণমুখী করতে হবে। বিগত নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের মানুষ জামায়াতের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছে, কাজের মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে।শিক্ষাশিবিরে কুরআন-হাদীস অনুশীলন, বই ও বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অঞ্চল টিম ও জেলা-মহানগরীর দায়িত্বশীলরা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য ফকীহ মাওলানা আব্দুল হাকিম।

সৈয়দপুরে মিয়া গোলাম পরওয়ার: চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হবে জামায়াতকে