জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: বিলস
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তব প্রাপ্তির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। সংগঠনটির মতে, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য খাতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও শ্রমজীবী মানুষের বাস্তব চাহিদার যথাযথ প্রতিফলন বাজেটে হয়নি।শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে "জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা, বাজেট-২০২৬-২৭-এর পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা" শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করা হয়।বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। বাজেটের পর্যালোচনা ও ১৫ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন গবেষণা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম। সমাপনী বক্তব্য দেন বিলসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ।বিলসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে শ্রমিক, কৃষকসহ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণ না করায় শ্রমবাজারের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি রয়ে গেছে।সংগঠনটি শ্রমিকবান্ধব বাজেট নিশ্চিত করতে ১৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—বাজেট প্রণয়নে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের জন্য টিআইএন ছাড়াই ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক ডিজিটাল শ্রমিক ডাটাবেস ও 'শ্রমিক কার্ড' চালু, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তি, শিল্পাঞ্চলে রেশন ব্যবস্থা, বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন এবং বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ।বিলসের নেতারা বলেন, বাজেট যদি কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারে, তবে তা প্রকৃত অর্থে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হিসেবে বিবেচিত হবে না। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক অধিকার সংগঠন, গবেষক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।