রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

সৈয়দপুরে ৫ বছর পর আদালতের মাধ্যমে জমির দখল পেলেন ৩ ক্রেতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমি কেনার প্রায় ৫ বছর পর আদালতের মাধ্যমে জমির দখল বুঝে পেয়েছেন তিন ক্রেতা। বায়না রেজিস্ট্রি দলিল করার পরও বিক্রেতারা কবলা দলিল করে দিতে অস্বীকৃতি জানালে আদালতের দ্বারস্থ হন তারা। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে জমির মালিকানা ও দখল ফিরে পেয়েছেন ক্রেতারা।শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়াপাড়া মোড় এলাকায় সৈয়দপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে আদালতের নির্দেশে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।জানা যায়, ২০২১ সালে ওই এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন মহিউস সুন্নাহ মাদরাসার পেছনে ২৯ শতক জমি কেনার জন্য যৌথভাবে বায়না রেজিস্ট্রি দলিল করেন তিন ক্রেতা। তারা হলেন—সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ী মদীনা লেন এলাকার অ্যাডভোকেট রাজিব মাহমুদ, নতুন বাবুপাড়া পুলিশ লাইন্স এলাকার আব্দুর রাজ্জাক এবং নীলফামারী শহরের উকিলপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট আল মাসুদ চৌধুরী।জমির বিক্রেতারা ছিলেন সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়া এলাকার মৃত ফজলার রহমানের ছেলে মামুনুর রহমান, মতিনুর রহমান ও মাহবুবর রহমান।অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্রেতারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির ৭৭.৩৭ শতকের মধ্যে ৬৬ শতকের অংশ থেকে ২৯ শতক জমির বায়না রেজিস্ট্রি দলিল করে দেন। পরে জমির সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরও কবলা দলিল করে দিতে গড়িমসি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে জমি বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানান।এরপর বাধ্য হয়ে ২০২২ সালে আদালতে মামলা করেন ক্রেতারা। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর মামলা চলার পর ক্রেতাদের পক্ষে গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে রায় হয়। পরে ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ডিক্রি জারি করা হয়।আদালতের আদেশ অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান জমি মাপজোক করে সীমানা নির্ধারণ করেন। পরে চৌহদ্দিতে লালশালু পতাকা টাঙিয়ে এবং ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দিয়ে ক্রেতাদের জমির দখল বুঝিয়ে দেন।জমিটির তফসিল অনুযায়ী খতিয়ান নম্বর—সি এস ১০৮৩, এস এ ৮৮৪ ও বি এস ২৬২৩। দাগ নম্বর যথাক্রমে ৩৩৭১, ৩২৮০ ও ৪৫৯৬। মোট ৭৭.৩৭ শতকের মধ্যে ৬৬ শতকের অংশ থেকে ২৯ শতক জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।এ সময় আদালতের আদেশনামা ও জমির তফসিল লেখা বোর্ড স্থাপন করা হয়। কার্যক্রমে জেলা জজকোর্ট ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা, পুলিশ সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এ বিষয়ে ক্রেতা নীলফামারী জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবু মাসুদ চৌধুরী বলেন, বিক্রেতারা বায়না রেজিস্ট্রি দলিলের পরও জমি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আমাদের হয়রানি করেছেন। তবে বৈধ দলিল অস্বীকার করলেই তা অবৈধ হয়ে যায় না। শেষ পর্যন্ত আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছি।অপর ক্রেতা অ্যাডভোকেট রাজিব মাহমুদ বলেন, বায়না রেজিস্ট্রি দলিল না থাকলে হয়তো প্রতারণার শিকার হতে হতো। জমি কেনার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে বায়না রেজিস্ট্রি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবী হয়েও দীর্ঘদিন আইনি লড়াই করে জমির মালিকানা পেতে হয়েছে।

সৈয়দপুরে ৫ বছর পর আদালতের মাধ্যমে জমির দখল পেলেন ৩ ক্রেতা