সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মাধবপুরে ক্যান্সার চিকিৎসার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস পর পা কাটার পরামর্শ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ক্যান্সার চিকিৎসার নামে এক নারীর পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সেবনের পরও রোগীর অবস্থার উন্নতি না হয়ে পায়ের সমস্যা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।ভুক্তভোগী মোছা. শারমিন আক্তার মাধবপুর উপজেলার ৪ নম্বর আদাঐর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা।পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে তারা ‘ডা. এস. এম. সারোয়ার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি চার মাসের কোর্সে ক্যান্সার ভালো করার আশ্বাস দেন। এ জন্য প্রথম মাসে ৩৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী মাসগুলোতে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।শারমিনের পরিবারের ভাষ্য, দীর্ঘ পাঁচ মাস ওষুধ সেবনের পরও তার পায়ের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং বর্তমানে পায়ে বড় ধরনের ফোলা ও ক্ষত তৈরি হয়েছে, যেখান থেকে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে।শারমিন আক্তার জানান, চিকিৎসকের কাছে পুনরায় গিয়ে সমস্যার কথা জানালে তাকে একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পা কেটে ফেলার বিষয়ে বলা হয়।শারমিনের শ্বশুর মো. জজ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সুস্থ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন পা কেটে ফেলার কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে ‘ডা. এস. এম. সারোয়ার’-এর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত ও ফোলাভাব গুরুতর হতে পারে। তাই রোগীর দ্রুত একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক বা সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি চিকিৎসকের যোগ্যতা, নিবন্ধন ও চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা যাচাই করাও জরুরি। তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চিকিৎসার নামে প্রতারণা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মাধবপুরে ক্যান্সার চিকিৎসার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস পর পা কাটার পরামর্শ