বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

চান্দা বিলের পাটে ঘুরছে হাজারো পরিবারের ভাগ্যের চাকা

গোপালগঞ্জের চান্দা বিলের পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মৌসুমি কাজ এখন হাজারো শ্রমজীবী পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বর্ষার পানিতে বিল এলাকায় পাট জাগ দেওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ সময় ব্যস্ততা বেড়েছে শ্রমিকদের।প্রাকৃতিক সম্পদ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সংকটে থাকা অনেক পরিবারের জন্য পাটের মৌসুমি কাজ নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও ধোয়ার কাজে প্রতিদিন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, এসব কাজে একজন শ্রমিক দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। বর্ষাকালের এই সাময়িক আয় দিয়েই অনেক পরিবার তাদের সংসারের খরচ চালাচ্ছে।তবে কৃষকদের অভিযোগ, পাট চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় ও শ্রম বেশি লাগলেও বর্তমান বাজারদর তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।কৃষকদের দাবি, প্রতি মণ পাটের দাম অন্তত ৪ হাজার ২০০ টাকা হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তারা লাভের মুখ দেখতে পারবেন। পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, গত জুলাই মাসে জেলায় ২৬ দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় মোট ৬৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার কাজ সহজ হয়েছে।চান্দা বিলের মানুষের কাছে বর্ষা যেমন নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে, তেমনি পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সৃষ্টি করে আয়ের সুযোগ। বিলের পানিকে কাজে লাগিয়ে পাটের মৌসুমি কাজে যুক্ত শ্রমিকরা বাড়তি আয় করছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ও শ্রমিক উভয়েই উপকৃত হবেন। পাশাপাশি চান্দা বিলকেন্দ্রিক পাট প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

চান্দা বিলের পাটে ঘুরছে হাজারো পরিবারের ভাগ্যের চাকা