খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ও জেলা সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পীর পৈত্রিক জমি দখলচেষ্টা, চাঁদা দাবি ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এ মামলা করেন ভুক্তভোগী ছাত্রনেতা বাপ্পী। মামলায় খানজাহানআলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জহির (৪২), দ্বীপু ওরফে কাউন্টার দ্বীপু (৪২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল সকালে কুয়েট রোড এলাকায় বাপ্পীদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় পৈত্রিক সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাপ্পীর পিতাকে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং প্রধান আসামি আব্বাসের নামে ৩ শতক জমি লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ সময় বাপ্পীর পিতার কাছে থাকা নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো টাকা পরিশোধ না করলে জমিতে আর কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।মামলার নালিশে আরও উল্লেখ করা হয়, আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মের অভিযোগে মহানগর বিএনপি তাকে একাধিকবার শোকজ করেছে। বর্তমানে তিনি বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালকাণ্ডেও শোকজপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছেন।বাদী সাজিদুল ইসলাম বাপ্পী অভিযোগে বলেন, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় আদালতে নালিশি আবেদন দাখিল করেন।আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল একই ঘটনায় খুলনা মহানগর বিএনপির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন বাপ্পী। সেখানে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।