সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

গরম ভাতে ঘি খেলে শরীরে কী হয়? জানুন উপকার-অপকার

গরম ভাতের সঙ্গে এক চামচ ঘি’ বাঙালি ও ভারতীয় উপমহাদেশের বহু পরিবারের পরিচিত খাবারের অভ্যাস। ঘির বিশেষ গন্ধ ও স্বাদ ভাত, ডাল কিংবা সবজির স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। তবে স্বাদের পাশাপাশি হজম, পুষ্টি শোষণ ও রক্তে শর্করার ওপরও এর কিছু প্রভাব থাকতে পারে।ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার। বিশেষ করে সাদা ভাত তুলনামূলক দ্রুত হজম হয়ে রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে পারে। খাবারের সঙ্গে চর্বি থাকলে পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। ফলে কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি গ্লুকোজ রক্তে তুলনামূলক ধীরে পৌঁছাতে পারে।তবে এর অর্থ এই নয় যে ঘি মেশানো ভাত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বিশেষ উপায়।ঘি যোগ করলে খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা ধীর হতে পারে’ এমন কিছু গবেষণা রয়েছে। তবে সীমিত গবেষণার ফল থেকে সবার ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।বরং ঘি যোগ করলে খাবারের মোট ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণও বাড়ে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে শুধু ভাতে ঘি দেওয়ার চেয়ে ভাতের পরিমাণ, ডাল, সবজি, প্রোটিন ও পুরো দিনের খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।ঘি চর্বির উৎস। শরীর কিছু চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ উপাদান চর্বির উপস্থিতিতে তুলনামূলক ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।গাজর, কুমড়া, পালং শাকসহ বিভিন্ন সবজিতে থাকা কিছু ক্যারোটিনয়েডের জৈবপ্রাপ্যতার সঙ্গে খাদ্যে চর্বির উপস্থিতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই ডাল-সবজির সঙ্গে অল্প ঘি খাবারের কিছু উপাদান শোষণে সহায়ক হতে পারে।তবে এজন্য বেশি পরিমাণে ঘি খাওয়ার প্রয়োজন নেই।ঘি মূলত চর্বি। এতে কিছু চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন থাকতে পারে এবং কিছু স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে। ঘির উৎপাদন পদ্ধতি ও দুধের উৎসের ওপর পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।ঘিতে থাকা বিউটেরেট নিয়েও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের বিষয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এক চামচ ঘি খেলেই উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাগত উপকার পাওয়া যাবে’ এমন দাবি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।ঘিকে ইচ্ছেমতো খাওয়ার মতো ‘স্বাস্থ্যকর চর্বি’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ঘিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পৃক্ত চর্বি থাকে। অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি রক্তে এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে।তাই হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সম্পৃক্ত চর্বির পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বির উৎসকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। বিশেষ করে যাদের কোলেস্টেরল বেশি বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ঘির পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।সবার জন্য একই পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না। বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, মোট ক্যালরি গ্রহণ ও অন্যান্য খাবারের ওপর প্রয়োজন নির্ভর করে।তবে ঘি যেহেতু ক্যালরি ও সম্পৃক্ত চর্বিতে সমৃদ্ধ, তাই অল্প পরিমাণে খাওয়াই যুক্তিসঙ্গত। ভাতে ঘি দিলে একই খাবারে থাকা অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবারের পরিমাণও বিবেচনায় রাখা উচিত।শুধু সাদা ভাত ও বেশি ঘির বদলে খাবারে রাখতে পারেন পরিমিত ভাত ডাল বিভিন্ন ধরনের সবজি মাছ, ডিম বা অন্য প্রোটিন অল্প পরিমাণ ঘি এতে খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিন ও খনিজও যুক্ত হবে। সারকথা: গরম ভাতে অল্প ঘি খাওয়া স্বাদ ও তৃপ্তি বাড়াতে পারে এবং খাবারের কিছু পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু ঘি কোনো জাদুকরী স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা ওজন কমানোর উপায় হিসেবে ভাতে ঘি যোগ করার ধারণা ঠিক নয়। পরিমিত ঘি ও সামগ্রিক ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গরম ভাতে ঘি খেলে শরীরে কী হয়? জানুন উপকার-অপকার