গ্রামীণফোন শ্রমিকদের ১৫ বছরের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রেস ক্লাবে বিক্ষোভ
গ্রামীণফোন শ্রমিকদের ১৫ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তাঁদের আইনগতভাবে প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিলম্বজনিত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁরা জানান, কর পরিশোধের পর মাত্র ১০ কোটি টাকা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে একটি সমঝোতার পথ খোলা হয়েছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের সমাধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী অবসান সম্ভব।সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, টানা ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।এ সময় সাম্প্রতিক রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের দাবি, ওই রিটের মাধ্যমে বাংলাদেশ শ্রম আইন, মোবাইল ফোন অপারেটরদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত বিধান এবং Workers' Profit Participation Fund (WPPF) ও Workers' Welfare Fund (WWF)-এর বিদ্যমান কাঠামো প্রভাবিত হতে পারে।তাঁরা বলেন, শ্রমিকদের WPPF/WWF-সংক্রান্ত অধিকার, ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণ কিংবা বিলম্বজনিত পাওনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন বা সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে তা শুধু গ্রামীণফোন শ্রমিকদের নয়, দেশের অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকারেও প্রভাব ফেলতে পারে।বক্তারা বলেন, শ্রম আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শিল্পক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত। তাই শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার কোনোভাবেই খর্ব করা উচিত নয়।সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, গ্রামীণফোন শ্রমিকদের ৫ শতাংশ WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণফোনের বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা বা লভ্যাংশ স্থানান্তরের বিষয়টি প্রচলিত আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হোক।এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রম অধিকারকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।সমাবেশ থেকে সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়।আয়োজন: গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ