সকালে গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা? হতে পারে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস
সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা থেকে নামতেই গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়? কয়েক পা হাঁটার পর ব্যথা কিছুটা কমে, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকার পর আবার শুরু হয়? এমন হলে এটি প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।পায়ের গোড়ালি থেকে আঙুলের গোড়া পর্যন্ত নিচের অংশে থাকা শক্ত তন্তুযুক্ত টিস্যুকে প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়া বলা হয়। এটি পায়ের খিলান ধরে রাখা এবং হাঁটার সময় চাপ সামলাতে সাহায্য করে। এই টিস্যুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে ছোট ক্ষতি ও প্রদাহ তৈরি হয়ে ব্যথা হতে পারে।এ সমস্যার সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো গোড়ালির নিচে বা সামনের দিকে তীক্ষ্ণ ব্যথা। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কয়েক পা হাঁটার সময় ব্যথা বেশি হতে পারে। কিছুক্ষণ হাঁটার পর কমলেও দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকার পর উঠে দাঁড়ালে আবার ব্যথা দেখা দিতে পারে।এক পায়ে বেশি হলেও দুই পায়েই সমস্যা হতে পারে।প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়ার ওপর বারবার চাপ পড়া এ সমস্যার অন্যতম কারণ। নিয়মিত দৌড়ানো, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, শক্ত মেঝেতে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা হঠাৎ ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।এ ছাড়া ঝুঁকি বাড়াতে পারে—
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানো বা হাঁটার কাজ
অতিরিক্ত ওজন
পায়ের গঠনগত সমস্যা
পা অতিরিক্ত সমতল বা বেশি বাঁকানো হওয়া
কাফের পেশি বা অ্যাকিলিস টেনডন শক্ত হয়ে থাকা
পুরোনো বা ক্ষয় হওয়া জুতা
পর্যাপ্ত কুশনিং বা সহায়তা নেই এমন জুতা
৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সে হতে পারে।ঘুমের সময় পায়ের পাতা দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় থাকে। সকালে উঠে হঠাৎ শরীরের ওজন পায়ের ওপর পড়লে প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়ায় টান তৈরি হয়। তাই প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপে ব্যথা বেশি অনুভূত হতে পারে। কিছুক্ষণ হাঁটার পর টিস্যু নড়াচড়া করায় ব্যথা কমে যেতে পারে।তবে গোড়ালির ব্যথা হলেই যে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস হয়েছে, তা নয়। অন্য কারণেও এমন ব্যথা হতে পারে।বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুরুতেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, ব্যায়ামের ধরন পরিবর্তন, নিয়মিত স্ট্রেচিং এবং উপযুক্ত জুতা ব্যবহারে অনেকের উপকার হতে পারে।ব্যথা বেশি থাকলে দৌড়ানো, লাফানো ও দীর্ঘক্ষণ হাঁটার মতো চাপযুক্ত কাজ সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়া যায়। সাঁতার বা সাইকেল চালানোর মতো কম চাপের ব্যায়াম বিকল্প হতে পারে।পায়ের পাতা, কাফের পেশি ও অ্যাকিলিস টেনডনের স্ট্রেচিংও উপকারী হতে পারে। প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে সঠিক ব্যায়াম শেখা যায়।ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে অল্প সময়ের জন্য গোড়ালিতে বরফ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বরফ সরাসরি ত্বকে না দিয়ে পাতলা কাপড়ে মুড়ে ব্যবহার করা উচিত।পাতলা, অতিরিক্ত শক্ত বা পর্যাপ্ত সহায়তা নেই এমন জুতা এড়িয়ে চলুন। পায়ের খিলানে সহায়তা ও গোড়ালিতে কুশনিং আছে এমন জুতা বেছে নেওয়া ভালো। পুরোনো ও ক্ষয় হওয়া জুতাও বদলে ফেলা উচিত।বাড়িতেও দীর্ঘ সময় খালি পায়ে শক্ত মেঝেতে হাঁটা এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।গোড়ালির ব্যথা কয়েক দিনেও না কমলে, ক্রমশ বাড়লে কিংবা হাঁটা ও দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে শুধু উপসর্গ দেখে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস ধরে নেওয়া ঠিক নয়।চিকিৎসক সাধারণত ব্যথার ধরন ও পায়ের শারীরিক পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুরুতেই এক্স-রে বা এমআরআই প্রয়োজন হয় না। অন্য কোনো সমস্যা সন্দেহ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইমেজিং পরীক্ষা করা হতে পারে।দীর্ঘদিন চিকিৎসায়ও ব্যথা না কমলে ফিজিওথেরাপি, রাতের স্প্লিন্ট, বিশেষ ইনসোল বা অন্য চিকিৎসা বিবেচনা করতে পারেন চিকিৎসক। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন সাধারণত খুব কম ক্ষেত্রেই হয়।
সকালে প্রথম কয়েক পা হাঁটার সময় গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা হলে বিষয়টি অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার ছাড়াই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।