মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনা পেলেন রাখাল, ভিড় ১০ হাজার মানুষের

ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে স্বর্ণের সন্ধান পেয়েছেন কেনিয়ার এক ছাগলপালক। মাত্র ৩ গ্রাম সোনা বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিং বা প্রায় ২৮০ ডলার। এরপরই ছড়িয়ে পড়ে খবর, আর স্বর্ণের সন্ধানে ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ।পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে গত কয়েক সপ্তাহে শুরু হয়েছে এক ধরনের ‘গোল্ড রাশ’। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ সেখানে স্বর্ণ খুঁজতে জড়ো হয়েছিলেন।৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে কয়েকজন নারীকে স্বর্ণ অনুসন্ধান করতে দেখেন। তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করেই তিনি স্বর্ণের সন্ধান পান।তবে শুধু লোমাচারের পাওয়া সোনাই মানুষের আগ্রহের কারণ নয়। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, একই সময়ে ওই এলাকায় আরও কয়েকটি স্বর্ণের সন্ধানের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেখানে আসতে শুরু করে।ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারি জানান, আগস্টের শুরুতে একদল তরুণ তুলনামূলক বড় পরিমাণ স্বর্ণ খুঁজে পান। পরদিন কয়েকজন নারীও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণের সন্ধান পান।খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিজ্ঞ খনিশ্রমিকের পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষও স্বর্ণের আশায় সেখানে ভিড় করেন। বর্তমানে মানুষের সংখ্যা কমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনে নেমে এসেছে, তবে অনুসন্ধান এখনো চলছে।স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া স্বর্ণের মূল্য কয়েকশ শিলিং থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার কেনিয়ান শিলিং বা ৬০০ ডলার পর্যন্ত হয়েছে।এই অঞ্চলের নদীর তীরে স্থানীয় নারীরা বহু বছর ধরে ছোট পরিসরে স্বর্ণ খুঁজে আসছেন। সাধারণত এতে সপ্তাহে ৮ থেকে ২৩ ডলারের মতো আয় হয়।স্বর্ণের খোঁজে উগান্ডা থেকেও অনেকে চেপোরোরে ছুটে এসেছেন। উগান্ডার বুসিয়া থেকে আসা খনিশ্রমিক মুগিশা গডফ্রে জানান, বন্ধুর কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি সেখানে এসেছেন। তবে এখনো কোনো সোনা পাননি।স্বর্ণ অনুসন্ধান ঘিরে এলাকায় নতুন ব্যবসারও সৃষ্টি হয়েছে। খনিস্থলের আশপাশে খাবার, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে।তবে হঠাৎ করে মানুষের ঢল নামায় স্থানীয় অবকাঠামোতে চাপ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও নিরাপদ থাকার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে।নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়েছে।এদিকে স্বর্ণের প্রকৃত মজুত কত, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মাটি ও পাথর প্রক্রিয়াজাত করার পরই এর পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় ছাগলপালক মানাসে লোমাচারের আশা, সরকার নিরাপদ ও আধুনিক পদ্ধতিতে খনন সুবিধা দিলে এলাকার মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।

ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনা পেলেন রাখাল, ভিড় ১০ হাজার মানুষের