রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

১০ আগস্ট থেকে ঢাকায় নতুন ট্রেন, বদলে যাচ্ছে গোপালগঞ্জের যাতায়াত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১০ আগস্ট থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু হচ্ছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন। সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ। কম খরচে রাজধানীতে যাতায়াতের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১০ আগস্ট দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে প্রথমবারের মতো যাত্রা করবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে রাজধানীতে পৌঁছাবে।প্রায় ৭০০ আসনের এই ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৫ টাকা। ফলে সড়কপথের তুলনায় অনেক কম খরচে ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন গোপালগঞ্জের যাত্রীরা। স্থানীয়দের মতে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নতুন এই রেলসেবা বিশেষ স্বস্তি নিয়ে আসবে।সড়কপথে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় যেতে সাধারণত ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নতুন ট্রেন চালু হলে কম খরচের পাশাপাশি যানজট এড়িয়ে তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে রাজধানীতে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।গোপালগঞ্জের রেলযান পরীক্ষক পল্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে সরাসরি এক জোড়া ট্রেন চালু করা স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। প্রায় ৭০০ আসনের এই ট্রেনে ১৪৫ টাকায় ঢাকায় যাতায়াত করা যাবে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত লাগেজ বগি যুক্ত হলে কৃষকরা কম খরচে কৃষিপণ্য রাজধানীর বাজারে পাঠাতে পারবেন।স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ট্রেনটি বড় সুবিধা নিয়ে আসবে। বাসের তুলনায় কম খরচে ঢাকায় যাওয়া যাবে। কৃষিপণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে কৃষকরাও উপকৃত হবেন।আরেক বাসিন্দা মো. মতিন বলেন, বাসে ঢাকায় যেতে বেশি খরচ হয় এবং সড়কপথে নানা ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে। ট্রেন চালুর ফলে কম খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে রাজধানীতে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার রত্না বৈদ্য জানান, গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল করলেও ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ ছিল না। নতুন ট্রেন চালুর ফলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যা অনেকটাই কমবে। যাত্রী সংখ্যা বাড়লে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।তবে ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। যাত্রী মো. মাসুদ রানা বলেন, ট্রেন চালু হওয়া আনন্দের খবর। তবে সকালে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেন ছাড়লে অফিস, ব্যবসা বা অন্যান্য কাজে যাওয়া মানুষ একই দিনে কাজ শেষ করে গোপালগঞ্জে ফিরতে পারতেন। তাই ভবিষ্যতে সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ সরাসরি রেল যোগাযোগ শুধু যাতায়াতের খরচ কমাবে না; শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করবে। গোপালগঞ্জের পাশাপাশি আশপাশের বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মানুষও এ রেলসেবার সুফল পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।দীর্ঘ অপেক্ষার পর চালু হতে যাওয়া ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ তাই গোপালগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে-এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয়দের।

১০ আগস্ট থেকে ঢাকায় নতুন ট্রেন, বদলে যাচ্ছে গোপালগঞ্জের যাতায়াত