মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

বেতগাড়ী গরুর হাটে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ, নীরব প্রশাসন নিয়ে প্রশ্ন

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নীতিমালা ভেঙে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও চাঁদাবাজির মতো পরিস্থিতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে।অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সরকারি ফি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে, যা মাস শেষে কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায় বলে দাবি করা হচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি নিয়মে গরু কেনাবেচায় ফি নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। রশিদে উল্লেখিত ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।ছাগল কেনাবেচার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নির্ধারিত ২২০ টাকার পরিবর্তে প্রতি ছাগলে প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেন একাধিক ক্রেতা ও বিক্রেতা। অভিযোগ রয়েছে, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।এছাড়া হাঁস-মুরগির মতো ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও প্রতি পিস ১০ টাকা করে জোরপূর্বক আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটে সরকারি ফি তালিকা প্রকাশ্যে টানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে কোনো তালিকা দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত ফি সম্পর্কে জানতে পারছেন না এবং ইজারাদারের ইচ্ছেমতো অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।হাটে দায়িত্বে থাকা একাধিক রশিদ লেখক নাম প্রকাশ না করে জানান, তারা নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত নেন না; ইজারাদার পক্ষের নির্দেশেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।ক্ষুব্ধ এক বিক্রেতা মুকুল মিয়া বলেন, এটা আর হাট নেই, এটা জোর করে টাকা নেওয়ার জায়গা হয়ে গেছে। সরকার এক নিয়ম দেয়, আর এখানে এসে দেখি আরেক নিয়ম। গরিব মানুষের ওপর জুলুম চলছে।ধনতলা এলাকার ক্রেতা বাচ্চা মিয়া বলেন, প্রতিবাদ করলেই ভয় দেখানো হয়। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।এদিকে গরুর হাট সংলগ্ন রংপুরগামী রাস্তায় হাট বসানোর কারণে যানজট ও চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ করে হাট বসানো হলেও প্রশাসনের তৎপরতা নেই।এ বিষয়ে বেতগাড়ী হাট ইজারাদার আবিদা সুলতানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্রুত তদন্ত করে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

বেতগাড়ী গরুর হাটে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ, নীরব প্রশাসন নিয়ে প্রশ্ন