বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

‘আজ রাতে কী খাব জানি না’, তিস্তার ভাঙনে নিঃস্ব মর্জিনা

আল্লাহ ছাড়া এখন আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। আজ রাতে কী খাব, সেটাও জানি না। নদী আমার সাজানো সংসার, ঘরবাড়ি সব কেড়ে নিয়েছে। ছোট ছোট সন্তানগুলোকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, জানি না।কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন তিস্তার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মর্জিনা বেগম।রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মর্জিনা বেগমের স্বামী মোত্তালেব হোসেনের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তাদের সম্বল বলতে রয়েছে শুধু সামান্য কিছু জায়গা ও কিছু জিনিসপত্র।মর্জিনা বেগম জানান, চার-পাঁচ দিন আগে তাদের বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ঘরে কোনো খাবার নেই। ছোট সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে।তিনি বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজ করে, কাশ কেটে কষ্ট করে সংসারটা গুছিয়েছিলাম। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমরা অসহায়।নদীর দিকে তাকিয়ে থাকা মোত্তালেব হোসেন বলেন, আমার সবকিছু নদীতে চলে গেছে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করে, তাহলে পরিবার নিয়ে বাকি জীবনটা বাঁচতে পারব।তিনি জানান, ২০০৮ সালে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে তিনি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও পরিশ্রমে গড়া সেই বাড়ি তিস্তার আকস্মিক পানি বৃদ্ধি ও তীব্র ভাঙনে মুহূর্তেই নদীগর্ভে চলে গেছে।মোত্তালেব বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলা হলে নদীভাঙন অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।এদিকে সুরুজ ইসলাম নদীতে বিলীন হওয়া বাড়ির অবশিষ্ট ইট সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, বাড়ি চলে গেছে, এখন যে কয়টা জিনিস বাকি আছে সেগুলো নিয়ে অন্য জায়গায় মাথা গোঁজার চেষ্টা করছি। ভাঙনের জায়গায় দ্রুত জিও ব্যাগ দেওয়া দরকার।স্থানীয় আবু তালেব জানান, প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিস্তা নদীর পাড়ে বসবাস করছেন তিনি। কয়েকবার বাড়ির স্থান পরিবর্তন করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করলেও এবার শেষ রক্ষা হয়নি।তিনি বলেন, এখনই যদি বাঁধের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আরও চার-পাঁচশ’ পরিবার রক্ষা পাবে। দ্রুত ব্লক ও বালুর বস্তা ফেলা প্রয়োজন।স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে বসতভিটা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারও নদীর তীব্র ভাঙনে বহু পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে নদীতীর রক্ষার কাজ চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।

‘আজ রাতে কী খাব জানি না’, তিস্তার ভাঙনে নিঃস্ব মর্জিনা