শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত, ঝুঁকিতে অধিকাংশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে গভীর আস্থার সংকটে পড়েছে। লুটপাট, জালিয়াতি ও অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণের চাপে অধিকাংশ ব্যাংকই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬২টি ব্যাংকের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া ১২টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি।ইতোমধ্যে ২৩টি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে আমানতকারী ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের মধ্যে ব্যাংক নিয়ে আস্থাহীনতা বাড়ছে।শুধু ব্যাংক নয়, দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের অবস্থাও উদ্বেগজনক। ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে রেড জোনে রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। আমানতের টাকা ফেরত পেতে ইতোমধ্যে হাজারো গ্রাহক আন্দোলনে নেমেছেন।আরিফ হোসেন খান বলেন, আর্থিক খাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন করে যাতে বেনামি ঋণ সৃষ্টি না হয়, সে জন্যও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।অন্যদিকে ড. এমকে মুজেরী মনে করেন, আর্থিক খাতের বর্তমান সংকট দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। তিনি বলেন, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে অর্থ লুট করেছে এবং এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থারও যোগসাজশ ছিল। তার মতে, আস্থা ফিরিয়ে আনতে জালিয়াতদের বিচারের আওতায় আনা এবং লুট হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা জরুরি।

খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত, ঝুঁকিতে অধিকাংশ ব্যাংক