বৃষ্টির আঘাতে মরিচের খেত নষ্ট, খানসামায় কেজি ২৮০ টাকা
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১৩০ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজি দরে।সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে ও দুপুরে খানসামা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় কাঁচা মরিচের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। কয়েকটি দোকানে সীমিত পরিমাণে মরিচ পাওয়া গেলেও বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতা প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারছেন না। কেউ কেউ অল্প পরিমাণ মরিচ নিয়েই ফিরছেন।বাজারে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সুজন ইসলাম বলেন, “চাল, ডাল, তেল ও অন্যান্য সবজির দাম আগেই বেশি। এর মধ্যে কাঁচা মরিচের দাম এত বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন প্রয়োজন হলেও আগের মতো বেশি করে মরিচ কেনা সম্ভব হচ্ছে না।”ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার মরিচের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং উৎপাদন কমে গেছে। ফলে স্থানীয় ও আঞ্চলিক মোকামগুলোতে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।খানসামা বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহিনুর ইসলাম বলেন, “চাহিদার তুলনায় বাজারে মরিচের সরবরাহ কম। পাইকারি মোকাম থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে।”স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাঁচা মরিচের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি নাও হতে পারে। নতুন করে উৎপাদন শুরু না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দাম চড়া থাকতে পারে।
ভোক্তারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নিয়মিত তদারকি বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।