জাবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘মৌসুমি ফল উৎসব–২০২৬’
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মৌসুমি ফল উৎসব–২০২৬’। দেশীয় মৌসুমি ফলের পরিচিতি বৃদ্ধি, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ উৎসব যেন এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আমির হোসেন। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে উপাচার্যের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।উদ্বোধনী পর্ব শেষে উপাচার্য উৎসবে অংশগ্রহণকারী সব স্টল পরিদর্শন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের পক্ষ থেকে সাতটি স্টল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে একটি স্টলসহ মোট আটটি স্টল উৎসবে অংশগ্রহণ করে।প্রতিটি স্টলে দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমি ফলের পাশাপাশি ফল দিয়ে প্রস্তুতকৃত নানা ধরনের আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যসামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা ছিল। শিক্ষার্থীরা নামমাত্র মূল্যে এসব খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করে উপভোগ করেন। স্টলগুলো নান্দনিক সাজসজ্জা, বৈচিত্র্যময় ফলের সমাহার এবং সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।উৎসবকে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য অংশগ্রহণকারী প্রতিটি বিভাগকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করা হয়, যা আয়োজনকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সার্বিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস যেন উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও আন্তরিক সহযোগিতায় দিনব্যাপী আয়োজনটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য এক আনন্দঘন স্মৃতিতে পরিণত হয়।এই আয়োজন নিয়ে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, এই রকম কো কারিকুলার এক্টিভিটিস শিক্ষার্থীদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। তারা দেশের মৌসুমি ফল তাদের উপকারিতা সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ পাবে। দেশের মাটির সাথে তাদের গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। আমরা সামনে এইরকম প্রোগ্রাম আরও আয়োজনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবগনিত বিভাগের শিক্ষার্থী যাকির হোসেন বলেন: "এইরকম আয়োজন আমরা আর চাই। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের মাইন্ড রিফ্রেশ করার সুযোগ তৈরি হয়।" সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জামান প্রকৃতি বলেন: " অনেক ফল আছে যেগুলো আমরা হয়তো চিনিনা তবে এই আয়োজনের মাধ্যমে নানা রকম ফলের সাথে আমাদের পরিচিতি হয়েছে। এছাড়া একটা উৎসব মূখর পরিবেশ বিরাজ করছে সব যায়গায়। আমাদের মধ্যে বন্ডিং বাড়াতে এইরকম অনুষ্ঠান আরও প্রয়োজন বলে আমি মনে করি"আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হলে দেশীয় মৌসুমি ফলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি আরও সমৃদ্ধ হবে।