বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

সুপারকম্পিউটারকেও হার মানালো চীনের নতুন কোয়ান্টাম সিস্টেম

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে চীন। দেশটির বিজ্ঞানীরা ‘চিউচাং ৪.০’ নামে একটি প্রোগ্রামযোগ্য পরীক্ষামূলক কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সিস্টেম তৈরি করেছেন, যা অপটিক্যাল কোয়ান্টাম তথ্যপ্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।বুধবার (১৩ মে) আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Nature-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘চিউচাং ৪.০’ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা জটিল ‘গাউসিয়ান বোসন স্যাম্পলিং’ সমস্যার সমাধান করেছেন। তাদের দাবি, এই সিস্টেম বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের তুলনায় ১০-এর ঘাত ৫৪ গুণ বেশি দ্রুতগতিতে কাজ করতে সক্ষম।গাউসিয়ান বোসন স্যাম্পলিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে বহু ফোটনকে একটি কোয়ান্টাম অপটিক্যাল সিস্টেমে প্রবেশ করানো হয়। ফোটনগুলো বিভিন্ন পথে চলার সময় একে অপরের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে এবং শেষে ডিটেক্টরে যে ফলাফল পাওয়া যায়, তার সম্ভাব্য বণ্টন বিশ্লেষণ করা হয়।নতুন এই সিস্টেমে সর্বোচ্চ ৩,০৫০টি ফোটনের কোয়ান্টাম অবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যেখানে আগের সংস্করণে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫৫।কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের প্রচলিত প্রযুক্তির মধ্যে সুপারকন্ডাক্টিং, আয়ন ট্র্যাপ, ফোটোনিক এবং নিউট্রাল অ্যাটম সিস্টেম উল্লেখযোগ্য। ‘চিউচাং’ সিরিজের ডিভাইসগুলো ফোটন ব্যবহার করে কোয়ান্টাম বিট এনকোড করে এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও পরিমাপের মাধ্যমে গণনা সম্পন্ন করে।২০২০ সালে প্রথম সংস্করণ উন্মোচনের পর থেকে ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে এই প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সর্বশেষ সংস্করণে ১,০২৪টি উচ্চ দক্ষতার অপটিক্যাল ফিল্ডকে ৮,১৭৬-মোডের জটিল সার্কিটে একত্রিত করে এই সাফল্য অর্জন করা হয়েছে।গবেষকদের দাবি, ‘চিউচাং ৪.০’ মাত্র ২৫ মাইক্রোসেকেন্ডে জটিল ডেটা নমুনা তৈরি করতে পারে। একই কাজ করতে একটি আধুনিক সুপারকম্পিউটারের সময় লাগতে পারে ১০-এর ঘাত ৪২ বছর। তাদের মতে, এই সাফল্য ভবিষ্যতে ত্রুটিসহিষ্ণু অপটিক্যাল কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ এবং ট্রিলিয়ন-কিউবিট স্তরের প্রযুক্তি উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সুপারকম্পিউটারকেও হার মানালো চীনের নতুন কোয়ান্টাম সিস্টেম