মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

কোরবানির ঈদে টুংটাং শব্দে জমজমাট কামার পাড়া

আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে খুলনার বিভিন্ন পয়েন্ট ও গ্রাম-গঞ্জের কামার পাড়ায় এখন জমে উঠেছে ব্যস্ততার কর্মযজ্ঞ। লোহা গরম করে হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্রয়োজনীয় দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও কুড়াল তৈরি ও শান দেওয়ার কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কামাররা।ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়লার দগদগে আগুনে লোহা পুড়িয়ে সেটিকে আকার দিচ্ছেন কারিগররা। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো মরিচা ধরা অস্ত্রও ধারালো করে নিচ্ছেন ক্রেতারা।কামারদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর লোহা ও কয়লার দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত কাজ থাকলেও এই পেশায় নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তারা।ঈদকে কেন্দ্র করে খুলনার বড় বাজার, নিউমার্কেট, গল্লামারী, টুটপাড়া, জোড়াকল বাজার ও খালিশপুর হাউজিং বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে কামারশালাগুলোতে এখন চলছে পুরোদমে কাজ।বটিয়াঘাটা বাজারের কর্মকার কালিপদ জানান, স্প্রিং ও লোহা ব্যবহার করে তারা দা, বটি ও ছুরি তৈরি করছেন। তাঁর মতে, স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি সরঞ্জামের দাম তুলনামূলক বেশি। দার দাম কেজি হিসেবে ৭৫০ টাকা, ছুরি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং বটি ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটে গ্রামগঞ্জের মানুষ এসে এসব সরঞ্জাম তৈরি ও শান করিয়ে নিচ্ছেন। ঈদকে ঘিরে এখন কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।খুটিরহাটে কামার ঘরে ধারালো ছুরি করাতে আসা সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর হালদার বলেন, কোরবানির জন্য ধারালো দা, বটি, ছুরি ও চাপাতির প্রয়োজন হয়। দাম কিছুটা বাড়লেও প্রয়োজনের কারণে এগুলো বানিয়ে নিতে হচ্ছে।অন্যদিকে খালিশপুর হাউজিং বাজারের কসাইরা বিভিন্ন স্থানে কোরবানির প্রস্তুতির জন্য দা, ছুরি ও চাপাতি শান দিচ্ছেন। কসাই নাসু জানান, ঈদুল আজহায় কাজের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে এবং এই সময়টিই তাদের প্রধান আয়ের সুযোগ। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই খুলনার কামার পাড়ায় টুংটাং শব্দে ব্যস্ততা বাড়ছে—যেন ঈদের আগমনের আগাম ঘোষণা দিচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।

কোরবানির ঈদে টুংটাং শব্দে জমজমাট কামার পাড়া