গোপন ছবি-ভিডিও ফাঁসের পরিণতি কী, জানাল কোরআন-হাদিস
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এর ফলে ব্যক্তিজীবন, পরিবার ও সমাজে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের সংকট। ইসলামী শরিয়তেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শরিয়া বিশ্লেষকদের মতে, কারও ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ তথ্য—ছবি, ভিডিও কিংবা অন্য কোনো গোপন বিষয়—তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও গর্হিত কাজ। কেউ এমন অপরাধ করলে শুধু তওবা করাই যথেষ্ট নয়; বরং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছেও ক্ষমা চাওয়া জরুরি।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মানহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুম করেছে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়। কারণ এমন দিন আসবে, যেদিন কোনো অর্থ-সম্পদ থাকবে না; বরং তার নেক আমল থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে।”(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯)পবিত্র কোরআনে মানুষের সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”(সুরা আন-নুর: ১৯)আরও বলা হয়েছে, “ধ্বংস প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য, যে সামনে ও পেছনে মানুষের দোষ খুঁজে বেড়ায়।”(সুরা আল-হুমাজাহ: ১)হাদিসে মানুষের গোপন বিষয় অনুসন্ধান ও প্রচার থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করো না।”(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০)অন্যদিকে, কারও দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।”(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৯০)বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়া এবং কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রত্যেকের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।