শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

ভুল চিকিৎসায় গাভী মৃত্যুর অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ দাবিতে কৃষকের সংবাদ সম্মেলন

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে কৃত্রিম প্রজনন (এআই) টেকনিশিয়ানের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় একটি সুস্থ গাভীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক কৃষক চঞ্চল কুমার দাস।ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ শহরের মুক্তারপাড়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চঞ্চল কুমার দাস। এ সময় তার বড় ভাই বিনয় ভূষণ দাস উপস্থিত ছিলেন।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল ওই গাভী। গাভীর দুধ বিক্রির অর্থ দিয়েই সংসারের খরচ ও সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় চালানো হতো।পরিবারের অভিযোগ, গত শুক্রবার গাভীর গর্ভ পরীক্ষা করার জন্য এআই টেকনিশিয়ান আক্তার হোসেন তাদের বাড়িতে যান। ১ হাজার টাকার চুক্তিতে পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। এতে গাভীটি তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মারা যায়।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মৃত গাভীর বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি দুধের অভাবে গাভীর ছোট বাছুরটিও মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— ১. অভিযুক্ত এআই টেকনিশিয়ান আক্তার হোসেনের সরকারি সনদ ও কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের অনুমতি বাতিল। ২. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান। ৩. জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।অভিযোগের বিষয়ে এআই টেকনিশিয়ান আক্তার হোসেন বলেন, “আমি সঠিকভাবে চিকিৎসা দিয়েছি। গাভী কীভাবে মারা গেছে, তা আমি জানি না।” এক হাজার টাকার চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শুভ দত্ত, অপূর্ব দাস, আব্দুল হেকিম, অসিত দাস, জয় দাস, বিন্দু দাস, স্বপ্নীল দাস, অঞ্জন দাস, বিমল দাস ও জোতিষ সেন উপস্থিত ছিলেন।

ভুল চিকিৎসায় গাভী মৃত্যুর অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ দাবিতে কৃষকের সংবাদ সম্মেলন