কিস্তিতে বেশি দামে পণ্য কেনা কি জায়েজ? জানালেন আলেমরা
ফ্রিজ, গাড়ি, বাড়ি, জমিসহ বিভিন্ন পণ্য এখন কিস্তিতে কেনাবেচা হয়। ক্রেতারা সহজে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারলেও অনেকের প্রশ্ন নগদ মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিস্তিতে পণ্য কেনা ইসলামে বৈধ কি না?ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত শর্ত মেনে কিস্তিতে পণ্য বিক্রি করা জায়েজ। নগদ মূল্যের চেয়ে কিস্তির মূল্য বেশি হলেও তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে টাকার বিনিময়ে বেশি টাকা নেওয়ার চুক্তি করলে সেটি সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তা হারাম।আলেমরা বলেন, কিস্তিতে কেনাবেচা বৈধ হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্যের মোট মূল্য, কিস্তির সংখ্যা ও পরিশোধের সময়সীমা চুক্তির সময় নির্ধারিত থাকা।এ ছাড়া চুক্তির পর কিস্তি দিতে দেরি হলে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করা যাবে না। একইভাবে পণ্যের দাম বেড়েছে এমন অজুহাতে পরে মূল্য বাড়ানোও বৈধ নয়।ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কিস্তিতে বিক্রির সময় পণ্যের মূল্য ও পরিশোধের সময় স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং চুক্তির পর পণ্য ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।মাসিক আল-কাউসার-এর একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, নগদ মূল্যের তুলনায় কিস্তিতে কিছুটা বেশি দাম নেওয়া বৈধ। তবে পণ্যের মূল্য ও বাকির মেয়াদ চুক্তির সময় নির্ধারণ করতে হবে এবং পণ্য নগদে বুঝিয়ে দিতে হবে।এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কিস্তিতে বেশি দামে পণ্য কেনা জায়েজ। তবে চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না।
অতএব, কিস্তিতে কেনাবেচা ইসলামে বৈধ হলেও তা হতে হবে স্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে। অন্যথায় বৈধ ব্যবসা সুদের পর্যায়ে চলে যেতে পারে।