শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মক্কায় ড্রোন হামলা, নেপথ্যে আমিরাতের অভিযোগ!

পবিত্র নগরী মক্কার কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের দাবি, হুতি বাহিনী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছে। তবে হুতিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে এর জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছে।এদিকে মক্কার কাছে ড্রোন হামলার নেপথ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে হুতি নেতৃত্ব। ইয়েমেনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিষদের সভাপতি ও ডি-ফ্যাক্টো প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত দাবি করেছেন, যারা জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে পবিত্র কাবার কিসওয়া পাঠিয়েছিল, তারাই মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।গত ১৬ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে আল-মাশাত এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পবিত্র মুসলিম স্থানগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে ইয়েমেনের জনগণের অবস্থান স্পষ্ট এবং গ্র্যান্ড মসজিদ রক্ষায় তারা ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।তবে মক্কার কাছে ধ্বংস করা ড্রোনের উৎস বা ফরেনসিক তথ্য নিয়ে সৌদি আরব এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। একইভাবে হুতি বাহিনীকে দায়ী করার ক্ষেত্রেও প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে ২০১৭ সালে তার বাসভবনে কাবা শরিফের কিসওয়ার কিছু অংশ পাঠানোর তথ্য সামনে আসে।নথি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের মাধ্যমে কিসওয়ার তিনটি টুকরা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সৌদি আরব থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে কাপড়গুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।প্রকাশিত নথিতে উল্লেখ করা হয়, তিনটি টুকরার মধ্যে একটি ছিল কাবার ভেতরের কাপড়, একটি ব্যবহৃত বাইরের আবরণ থেকে নেওয়া এবং আরেকটি একই ধরনের অব্যবহৃত কাপড়। ২০১৭ সালের মার্চে এগুলো এপস্টেইনের বাড়িতে পৌঁছায়। তবে এপস্টেইনের কাছে কিসওয়া পৌঁছানোর তথ্য এবং মক্কার ড্রোন হামলার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযোগটি আপাতত তাদের নিজস্ব দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মক্কায় ড্রোন হামলা, নেপথ্যে আমিরাতের অভিযোগ!